যে ২ অস্ত্রে ইমরান খানের বাজিমাত – News Portal 24
ঢাকাSunday , ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

যে ২ অস্ত্রে ইমরান খানের বাজিমাত

নিউজ পোর্টাল ২৪
ফেব্রুয়ারী ১১, ২০২৪ ১১:০০ অপরাহ্ন
Link Copied!

দলীয় প্রতীক ক্রিকেট ব্যাটে নির্বাচনে দাঁড়াতে না পারলেও পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) নেতারা ১০১টি আসনে জয়ী হয়েছেন। তারা স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচনে লড়ে জনগণের ভোটে জিতে অভূতপূর্ব সাফল্য দেখিয়েছেন।

সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চরম ধরপাকড়ের মধ্যেও এমন চমকের নেপথ্যে কী– তা নিয়ে সর্বত্র চলছে বিশ্লেষণ। এতে বেরিয়ে এসেছে দুটি তথ্য। এর মধ্যে একটি সেনাবাহিনীর বিরোধিতা করা, অন্যটি যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী মনোভাব। খবর এনডিটিভির।

ভারতীয় সিনিয়র সাংবাদিক মাহা সিদ্দিকীর বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িয়েও যে ফল করেছেন পিটিআই সমর্থিত প্রার্থীরা, তা ইমরানের ২০২২ সালে অনাস্থা প্রস্তাবে প্রধানমন্ত্রিত্ব হারানোর পর ঝুঁকিপূর্ণ রাজনৈতিক কৌশলের সফলতার ইঙ্গিত। যদিও এই ফলের মাধ্যমে তারা এককভাবে ক্ষমতায় যেতে পারবেন না, কারণ সরকার গঠনে ১৩৪ আসন দরকার।

নির্বাচনের ঠিক কদিন আগে পাকিস্তানের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনীতিবিদ ও সাবেক তারকা ক্রিকেটার ইমরান খানের দলীয় প্রতীক ক্রিকেট ব্যাট বাতিল করে নির্বাচন কমিশন। এর আগে থেকেই ৩ বছরের সাজা মাথায় নিয়ে কারাগারে আছেন ইমরান। দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় নির্বাচনে দাঁড়াতে পারেননি তিনি।

এবার যা ঘটেছে, তা অনেকটা ২০১৮ সালের নির্বাচন পরিস্থিতির মতোই। সেই সময় নির্বাচনের তিন সপ্তাহ আগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। অন্যদিকে, ইমরান খান সেনাবাহিনীর সমর্থন পেয়েছিলেন। নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ না হওয়ার অভিযোগ এবারের মতোই ছিল। ইমরানকে প্রধানমন্ত্রী বানানোর প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপের অভিযোগ উঠেছিল সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে। ইমরান শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী হন। কিন্তু উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা নিয়োগ নিয়ে সেনাবাহিনীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক চার বছরের মাথায় খারাপ হতে থাকে।

এরপর ক্ষমতাচ্যুত হয়ে রাজনীতির মাঠে প্রকাশ্যেই সেনাবাহিনীর বিরোধিতা করেন ইমরান। তাঁকে একটি জনসভায় গুলি করে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় সিনিয়র সেনা কর্মকর্তাকে দায়ী করেন। অবশ্য সামরিক বাহিনী এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে আক্রোশের অকল্পনীয় ফল পেয়েছেন ইমরান। একপর্যায়ে তাঁর গ্রেপ্তার ঘিরে দেশজুড়ে শুরু হয় সহিংসতা। আক্রান্ত হয় সামরিক স্থাপনাও। এরপর শুরু হয় ধরপাকড়। এতে লাভবান হয়েছেন ইমরান। যার প্রভাব পড়েছে ব্যালটে।

পিটিআই সমর্থকদের জয়ের পেঠনে দ্বিতীয় যে কারণটি রয়েছে, তা হলো ইমরানের যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী মনোভাব। ক্ষমতাচ্যুতির ঘটনায় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ আনেন। একই সঙ্গে এর জন্য দেশটির দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লুকেও দায়ী করেন। ‘বিদেশি ষড়যন্ত্র’ রয়েছে দাবি করলেও যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের বিষয়ে হস্তক্ষেপের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

অবশ্য, দুই বছর ধরে পাকিস্তানের সমাজের কিছু অংশে মার্কিনবিরোধী মনোভাব নিয়ে রাজনীতির মাঠে ব্যাপক সাড়া পেয়েছেন ইমরান খান।