জীবিতকে মৃত দেখিয়ে অন্যের নামে যাচ্ছে বিধবা ভাতা! – News Portal 24
ঢাকাMonday , ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

জীবিতকে মৃত দেখিয়ে অন্যের নামে যাচ্ছে বিধবা ভাতা!

নিউজ পোর্টাল ২৪
ফেব্রুয়ারী ১২, ২০২৪ ৪:৪৯ পূর্বাহ্ন
Link Copied!

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে এয়াংরাজের মা (৮০) নামে এক বৃদ্ধাকে ‘মৃত’ দেখিয়ে তার বিধবা ভাতার কার্ড বাতিল করা হয়েছে। গত এক বছরের বেশী সময় ধরে তিনি বিধবা ভাতা পাচ্ছেন না। এদিকে এয়াংরাজের মা এর নাম পরিবর্তন করে রোকিয়া খাতুন (৪৬) নামে আরেকজনের নামে সেই ভাতা দেওয়া হচ্ছে বলে জানা যায়। উপজেলার মাইজবাগ ইউনিয়নের বিলরাউল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, প্রায় ৩০ বছর আগে এয়াংরাজের মা এর স্বামী গোলাম হোসেন মারা যান। তাঁদের কোনো সন্তান-সন্ততি নেই। এরপর থেকে তিনি স্বজনদের সহযোগিতায় কোনোমতে জীবন যাপন করছেন। প্রথমবার বিধবা ভাতা চালু হলে তিনি সেই তালিকায় যুক্ত হন।

এরপর তিন মাস অন্তর অন্তর তিনি এক হাজার পাঁচ শ’ টাকা করে নিয়মিত ভাতা পান। তবে ২০২২ সালের অক্টোবর মাস থেকে তার মোবাইলে ভাতা মেসেজ আসা বন্ধ হয়ে যায়। কেন এমনটি হয়েছে তা তিনি জানতে পারেননি।

এ অবস্থায় স্থানীয় মজিবুর রহমান নামে একজন ওই বিধবা নারীর বই নিয়ে উপজেলা সমাজ সেবা অফিসে গেলে জানতে পারেন, প্রায় এক বছর আগে উপকারভোগি এয়াংরাজের মা মারা গেছেন।

তাই মজিবুর রহমান তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ করে। আরেকদিন তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছে এয়াংরাজের মাকে নিয়ে যান এবং তিনি যে মারা যাননি তা প্রমাণের চেষ্টা করেন। এভাবে এক বছর পার হলেও কোনো কাজ হয়নি। আর অফিস থেকে বলা হয়, যা হওয়ার হয়ে গেছে। এখন অপেক্ষা করা ছাড়া উপায় নেই।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে এয়াংরাজের মা এ প্রতিনিধিকে বলেন, আমি কিবায় মরলাম,তা তারাই (সামাজ সেবা অফিস) কইতারবো। আমার তো কেউ নাই। এই কয়ডা টেহা দিয়া কোনো মতে চলছিলাম। অহন টেহা না পাইয়া অ্যা হে চালায়। আমারে জেতা (জীবিত) কইর‌্যা একটা ব্যবস্থা কইর‌্যা দেওহাইন। অসুখ-বিসুখ অইলে ওষুধ খাঅনের টেহা নাই।

ওই বৃদ্ধার বিধবা ভাতা দেওয়ার একটি বইয়ের (বই নং-২৬২, ব্যাংক হিসাব নাম্বার-৩১) ফটোকপি নিয়ে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা সমাজ সেবা কার্যালয়ে গিয়ে অনলাইন সার্চ করে দেখা যায়, ২০২২ সালের ১২ ডিসেম্বর এয়াংরাজের মাকে মৃত দেখিয়ে তার ভাতা পাশের কুল্লাপাড়া গ্রামের আব্দুল হামিদের মেয়ে রোকেয়া খাতুনের নামে প্রতিস্থাপন করা হয়। এরপর থেকে রোকেয়া খাতুন বিধবা ভাতা পাচ্ছেন।

ওই সময় অফিসে ছিলেন মাইজবাইগ ইউনিয়নের দাযিত্বপ্রাপ্ত মাঠকর্মী মো. আনিছ। সমাজসেবা কর্মকর্তা তার কাছে এ ঘটনার ব্যাখ্যাসহ ওই বৃদ্ধার ফাইল আনতে বললে তিনি দীর্ঘক্ষণ খোঁজ করে জানান, ওই ফাইল পাওয়া যাচ্ছে না। এক পর্যায়ে এই প্রতিনিধিকে ডেকে নিয়ে বলেন, ‘প্লিজ কিছু কইরেন না। আমি ওই বৃদ্ধার একটা ব্যবস্থা করে দেব।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাইজবাগ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইদুল ইসলাম বাবুল বলেন, এসব আমার আমলে হয়নি।

পরবর্তীতে জানা যায়, আগের মেম্বার ও উপজেলা সমাজ সেবা অফিসের মাঠকর্মী মো. আনিছ বিধবা ভাতার সুবিধাভোগী এয়াংরাজের মায়ের ‘মৃত’ ভুয়া সনদ তৈরি করে এ কাণ্ড ঘটিয়েছে।

জানতে চাইলে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা হাসান কিবরিয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যেন আগের বৃদ্ধা তাঁর প্রাপ্য দ্রুততর সময়ে ফেরত পান। এ ঘটনায় অফিসের কেউ জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।