‘শারীরিক চাহিদা’ মেটাতে না পারায় স্বামীকে হত্যা, স্ত্রীর স্বীকারোক্তি – News Portal 24
ঢাকাTuesday , ১৭ জানুয়ারী ২০২৩

‘শারীরিক চাহিদা’ মেটাতে না পারায় স্বামীকে হত্যা, স্ত্রীর স্বীকারোক্তি

নিউজ পোর্টাল ২৪
জানুয়ারী ১৭, ২০২৩ ৭:৩৩ অপরাহ্ন
Link Copied!

পরিবারের পছন্দে মাত্র দেড় মাস আগে গড়েন নতুন সংসার। সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের আগনুকালি গ্রামের মৃত আবু সামার ছেলে শরিফুল (২৫) বিয়ে করেছিলেন একই উপজেলার চর বেতকান্দি গ্রামের ফখরুল ইসলামের স্বামী পরিত্যক্তা মেয়ে ফারজানা খাতুনকে (১৮)।

এদিকে বিয়ের পর থেকেই শরিফুলের শারীরিক অক্ষমতার কারণে অসুখী ছিলেন ফারজানা। বিষয়টি নিজের স্বজনদেরকে জানিয়ে বিচ্ছেদের কথা বললে তারা ফারজানাকে গালমন্দ করতেন। তাই পরিকল্পিতভাবে শরিফুলকে হাত-পা বেঁধে হত্যার পর করতোয়ায় ফেলে দেন তিনি।

মঙ্গলবার (১৭ জানুয়ারি) এক সংবাদ সম্মেলনে সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শাহজাদপুর সার্কেল) হাসিবুল ইসলাম এ তথ্য জানান।

হাসিবুল ইসলাম জানান, শরিফুলের মরদেহ উদ্ধার হওয়ার তিন দিন পর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করা হয়েছে। সোমবার (১৬ জানুয়ারি) আসামি ফারজানা আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে হত্যার দায় স্বীকার করে এ বক্তব্য দিয়েছেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, গত ৯ জানুয়ারি রাত আনুমানিক ১১টায় শ্বশুরবাড়িতে যান শরিফুল। ফারজানা ওইদিন রাত তিনটার দিকে শরিফুলকে প্রতারণার মাধ্যমে নদীর পাড়ে নিয়ে যান এবং কবিরাজের বরাত দিয়ে বলেন হাত-পা বাঁধা অবস্থায় নদীর স্রোতের পানি তুলে পান করলে শারীরিক অক্ষমতা দূর হবে। শরিফুল তাতে সায় দিলে তার পরনের লুঙ্গি ছিঁড়ে হাত ও পা বেঁধে দেন ফারজানা। এরপর একটি প্লাস্টিকের বোতল হাতে নিয়ে নদীর স্রোতের পানি তুলতে গেলে ফারজানা তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন এবং ঘাড় চেপে ধরেন। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে ফারজানার হাতে কামড় বসিয়ে দেন শরিফুল। এ সময় ফারজানা ক্ষিপ্ত হয়ে শরিফুলের ঘাড় ভেঙে দেন। এরপর শরিফুলের মৃত্যু নিশ্চিত হলে ফারজানা তার দেহ পাশে থাকা শ্যালো নৌকার নিচে ঢুকিয়ে দেন। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনার চার দিন পর শনিবার (১৪ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় পার্শ্ববর্তী শিবরামপুর গ্রামের করতোয়া নদীর পোলঘাটে মরদেহ ভাসতে দেখে এলাকাবাসী পুলিশকে খবর দেয়।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে হাসিবুল ইসলাম আরও বলেন, কিছুদিন আগে স্বামী শরিফুলের শারীরিক অক্ষমতার বিষয়টি ফারজানা তাঁর মা বুলবুলি খাতুনকে জানিয়ে ছাড়াছাড়ির আগ্রহের কথা জানালে তাঁকে তাঁর মা গালমন্দ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন শাহজাদপুর থানার পরিদর্শক তদন্ত সাজ্জাদুর রহমান, পরিদর্শক (অপারেশন) আব্দুল মজিদ ও মামলার তদন্তকারী উপপরিদর্শক গোপাল চন্দ্র।

উল্লেখ্য, ১৪ জানুয়ারি সকাল ১০টায় পার্শ্ববর্তী শিবরামপুর গ্রামের করতোয়া নদীর পোলঘাটে লাশ ভাসতে দেখে পুলিশে খবর দেন এলাকাবাসী। পরে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর শরিফুলের মা ও পরিবারের সদস্যরা মরদেহ শনাক্ত করেন। মরদেহ উদ্ধারের পর নিহতের স্ত্রী ফারজানাসহ চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। ওই দিন শরিফুলের মা সূর্য বানু অজ্ঞাত আসামিদের নামে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। জিজ্ঞাসাবাদে ফারজানা হত্যার কথা শিকার করেন।

এর দুই দিন পর ফারজানা গতকাল সোমবার হত্যার দায় স্বীকার করেন শাহজাদপুর আমলি আদালতে। নিহত শরিফুলের স্ত্রী ফারজানা জবানবন্দি পেশ করেন ও শাহজাদপুর আমলি আদালতের বিচারক গোলাম রব্বানী জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করেন।