কোন কোন সময় সহবাস করলে স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা বা গর্ভবতী হয় না - News Portal 24
ঢাকাTuesday , ২৭ ডিসেম্বর ২০২২

কোন কোন সময় সহবাস করলে স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা বা গর্ভবতী হয় না

নিউজ পোর্টাল ২৪
ডিসেম্বর ২৭, ২০২২ ১২:২৭ অপরাহ্ন
Link Copied!

অনেক দম্পতি এখনই সন্তান নিতে চায় না কিন্তু স্ত্রীর সাথে শারীরিক সম্পর্ক নিয়মিত রাখতে চান তাদের জন্য আজকের ইনফোটি শেয়ার করা হলো। অনেকেই বিভিন্ন জন্ম নিয়ন্ত্রক ব্যবহার করে যৌন জীবন উপভোগ করে থাকেন। আবার অনেকেই এগুলো ব্যবহার করতে অনীহা প্রকাশ করেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন জানতে চেয়েছেন কোন কোন সময় সহবাস করলে অন্তঃসত্ত্বা বা গর্ভবতী হয় না? জ্বী আপনাকে বলছি, আপনি যদি জন্ম নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা (পিল বা কনডোম) ব্যবহারে অনীহা বোধ করেন, তাহলে ন্যাচারাল ব্যবস্তা একটি উপায় হতে পারে।

ন্যাচারাল এই পদ্ধতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কর্তৃক স্বীকৃত একটি পদ্ধতি। এ পদ্ধতিতে ওভুলেশন বা ডিম্বাণু স্ফুরণের সময়টি হিসাব করে উক্ত সময়ে সহবাস বন্ধ রেখে কিংবা স্বল্প সময়ের জন্য কোন জন্মনিয়নত্রক ব্যবস্থা গ্রহণ করে স্ত্রী সহবাস করতে পারেন।

স্ত্রী সহবাসের নিরাপদ সময় কিভাবে গণনা করবেন?

যে নারী ন্যাচারাল পদ্ধতি ব্যবহার করবেন অর্থাৎ প্রাকৃতিকভাবে জন্মনিয়ন্ত্রন করতে চান, তাদের পূর্ববর্তী ছয় মাসের পিরিয়ড বা মাসিকের হিসাব রাখতে হবে। একবার মাসিক শুরু হওয়া থেকে পরবর্তী মাসিক শুরু হওয়া পর্যন্ত কত দিন ব্যবধান, এই হিসাব লিখে রাখতে পারলে গণনা সঠিকভাবে করতে পারবেন।

গত ছয় মাসের মাসিক চক্র থেকে বিয়োগ করে সহবাসের নিরাপদ দিনগুলো বের করতে পারেন সহজেই। সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত ব্যবধানের মাসিকচক্র থেকে ১৮ দিন এবং সবচেয়ে দীর্ঘ মাসিক চক্র থেকে ১১ দিন বিয়োগ করে এই হিসাব বের করা হয়।

নিরাপদ দিনগুলো কীভাবে হিসাব করবেন তার উদাহরণ

যদি কারো মাসিক চক্রের হিসাব ২৬ থেকে ৩০ দিন হয়, অর্থাৎ সর্বনিম্ন ২৬ দিন এবং সবচেয়ে দীর্ঘ মাসিক চক্র ৩০ দিন, তাহলে নিরাপদ দিনের হিসাবটা হবে এ রকম:

আরও পড়ুনঃ  নিয়মিত মধু পানের স্বাস্থ্য উপকারিতা

২৬-১৮ = ৮ এবং ৩০-১১= ১৯

এই হিসাব অনুযায়ী ওভুলেশনের সম্ভবনা মাসিকের ৮ম দিন থেকে ১৯ তম দিন পর্যন্ত। নারীদের মাসিক চক্রের এই সময়টা হচ্ছে ডেঞ্জার পিরিয়ড বা ফার্টাইল পিরিয়ড। এই সময়ে সহবাস করলে বাচ্চা হওয়ার সম্ভবনা সবচেয়ে বেশি। যদি কেউ বাচ্চা নিতে না চায়, তাহলে এই সময়ে সহবাস বন্ধ, কনডোম ব্যবহার  কিংবা পিল ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন।

প্রাকৃতিক এই নিয়মের সীমাবদ্ধতা

এই ন্যাচারাল পদ্ধতি সাধারণত তাদের জন্য প্রযোজ্য হয়, যাদের মাসিক নিয়মিত হয়। তাদের জন্য এই পদ্ধতি ফলপ্রসূ হবে না, যাদের মাসিয় নিয়মিত হয় না।

অনেক গবেষণা থেকে জানা যায়, এই পদ্ধতি প্রয়োগ করার ক্ষেত্রে ফেইলর রেট অনেক বেশি হয়ে থাকে। এমনকি ফেইলর রেট ১৪% দেখা গেছে।

আপনি যদি বাচ্চা নিতে না চান এবং মাসিক নিয়মিত হয়, তাহলে এই ন্যাচারাল পদ্ধতি প্রয়োগ করতে পারেন নির্দিধায়।

বাচ্চা নেওয়ার জন্য কিভাবে সহবাস করবেন?

যারা বাচ্চা গ্রহণ করতে চান, তারা ঠিক উপরের নিয়মে হিসাব-নিকাশ করে ডেঞ্জার পিরিয়ডে সহবাস করবেন। এতে ফলাফল ভাল হওয়ার সম্ভবনা সবথেকে বেশি থাকে।

স্ত্রীর জরায়ুতে ‍ওভুলেশন হওয়ার পর ডিম্বাণু সাধারণত ২৪ ঘন্টা জীবত থাকে। আবার পরুষের শুক্রাণু ৩ থেকে ৫ দিন পর্যন্ত নারীর যোনিপথে জীবিত থাকতে পারে। তাই ডেঞ্জার পিরিয়ডে প্রতিদিন সহবাস করতে হবে, এমন ধারণা করা ভুল।

চিকিৎসকের পরামর্শ হচ্ছে, বাচ্চা নিতে চাইলে ডেঞ্জার পিরিয়ডে একদিন পর পর সহবাস করলেই চলবে।

পিরিয়ডের ১০ দিন বাদে অন্য সময় যৌন সম্পর্ক স্থাপন করা নিরাপদ?

উত্তর হলো, না, নিরাপদ নয়। তবে অন্য দিনগুলোতে কোনো সুরক্ষাব্যবস্থা ছাড়া সহবাস করলে গর্ভবতী হয়ে পড়ার সম্ভাবনা কম। তবে পুরোপুরি নিরাপদ, এটা বলা যাবে না। কেননা, ডিম্বাশয় যে ৯ থেকে ১৯তম দিনের মাঝেই ডিম্বাণু উৎপাদন করবে, এমন কোনো কথা নেই। এটা নানা কারণে এগোতে বা পেছাতে পারে। ধরুন আপনি পিরিয়ডের শেষ দিকে সহবাস করেছেন, আর সেই মাসে ডিম্বাশয় আগে আগেই ডিম্বাণু উৎপাদন করেছে। আর শুক্রাণু তো পাঁচ দিন পর্যন্ত থাকেই। সে ক্ষেত্রে নিষিক্ত হওয়ার একটা সম্ভাবনা থেকেই যায়। টেনশন বা দুশ্চিন্তা, ডায়েট, ভারী শরীরচর্চা এগুলো ডিম্বাশয়কে ডিম্বাণু উৎপাদনের ক্ষেত্রে প্রভাবিত করতে পারে। তাই অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভাবস্থা এড়াতে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহারের কোনো বিকল্প নেই।

আরও পড়ুনঃ  নিয়মিত মধু পানের স্বাস্থ্য উপকারিতা