ঢাকাMonday , ২ মে ২০২২

অগোছালো বিছানাই স্বাস্থ্যকর

নিউজ পোর্টাল ২৪
মে ২, ২০২২ ১১:৫১ পূর্বাহ্ন
Link Copied!

ঘুম থেকে উঠেই প্রথম কাজ হলো বিছানাটি গুছিয়ে পরিপাটি করা এমন মানুষের সংখ্যা একেবারে ফেলে দেয়ার মতো নয়। আর খুঁতখুঁতে স্বভাবের এই মানুষদের সবচেয়ে বড় যন্ত্রণা এটিই যে, বিছানাটি অগোছালো, নোংরা হয়ে রইল, আবার এতে শুতে হবে।

তবে, এবার তাদের অমন খুঁতখুঁতে স্বভাব পাল্টে একটু আশাবাদী হওয়ার সময় এসেছে, কেননা, অগোছালো বিছানা অত্যন্ত স্বাস্থ্যকর!

ঘুম থেকে ওঠার পর অগোছালো বিছানাটিকে মানুষ করার জন্যে ব্যস্ত হয়ে পড়ার দরকার নেই, বিছানা ছেড়ে নিশ্চিন্ত মনে অন্য কাজে লেগে যাওয়াই শ্রেয়। কথায় আছে, ‘চকচক করলেই সোনা হয় না’।

ঠিক তেমনি, পরিপাটি বিছানাই যে স্বাস্থ্যকর হবে, এতদিনের এ ধারণাও ঠিক নয়। ঘুম থেকে ওঠার পর বিছানাটিকে দেখতে যত হতচ্ছাড়া গোছেরই লাগুক না কেন, সেটি বরং অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর।

শুনতে পাগল-ছাগলের প্রলাপ মনে হলেও কথাটি একেবারে খাঁটি সত্যি। খোদ বিজ্ঞানীরা বলছেন, একেকটি বিছানায় গড়পড়তা প্রায় ১৫ লাখ চেলোপোকার বসবাস। পোকাগুলো অ্যাজমা ও এলার্জির মতো অনেক রোগ তৈরি করে মানুষের শরীরে। আর এ পোকাগুলো একটু ঠাণ্ডা পরিবেশ ছাড়া বেঁচে থাকতে পারে না। ঠিকমতো বেঁচে থাকতে এদের বেশ আর্দ্র পরিবেশের প্রয়োজন হয়। সুন্দর ও পরিপাটি বিছানায় বাতাসের আর্দ্রতা মিশে যেতে কোনো বাধাই নেই, যা অগোছালো বিছানার ক্ষেত্রে ঘটে না। তোষক-বালিশ-চাদর উল্টোপাল্টা করে জড়িয়ে থাকায় অগোছালো বিছানায় বাতাসের আর্দ্রতা ভালো করে মিশতে বাধা পায়। ফলে এমন বিছানাতে পরিবেশটি থাকে অপেক্ষাকৃত উষ্ণ। কিন্তু এ উষ্ণ পরিবেশই হলো চেলোপোকার বড় শত্রু।

পোকাগুলো তাদের শরীরের বাইরের অংশে থাকা এক ধরনের লালাগ্রন্থির মাধ্যমে বাতাস থেকে পানি শুষে নিয়ে বেঁচে থাকে। আর গবেষকরা বলছেন, দিনের বেলাতে যদি বিছানাটিকে এলোমেলোই রেখে দেওয়া হয়, তবে বিছানার চাদর-বালিশ-তোষকে আর্দ্রতার পরিমাণ কম থাকে। ফলে অগোছালো বিছানায় ওই পোকাগুলো পানিস্বল্পতার শিকার হয় এবং একসময় মরে যায়।

সুতরাং, নো টেনশন, ঘুম থেকে উঠে বেমালুম ভুলে যান বিছানাটির কথা।