‘পাওয়ারস্টার’ পুনীতের দান করা চোখে দৃষ্টি ফিরে পেলেন ৪ জন – News Portal 24
ঢাকাWednesday , ৩ নভেম্বর ২০২১

‘পাওয়ারস্টার’ পুনীতের দান করা চোখে দৃষ্টি ফিরে পেলেন ৪ জন

নিউজ পোর্টাল ২৪
নভেম্বর ৩, ২০২১ ১২:১৩ পূর্বাহ্ন
Link Copied!

সদ্য প্রয়াত এই অভিনেতা সবার কাছে ‘পাওয়ারস্টার’ নামে পরিচিত ছিলেন। অভিনয় দক্ষতা এবং মানবিক গুণাবলী দিয়ে পর্দার বাইরেও তিনি ছিলেন মানুষের জীবনের নায়ক, ছিলেন তাদের ভরসার আশ্রয়স্থল। মৃত্যুর পরও মনবতার নজির রেখে গেলেন পুনীত।

কন্নড় সিনেমার পাওয়ারস্টার পুনীত রাজকুমারের কারণে একপ্রকার দ্বিতীয় জীবন ফিরে পেলেন ৪ জন। সদ্য প্রয়াত এই অভিনেতার দান করা চোখ দিয়ে পৃথিবী দেখার সুযোগ পেলেন তারা।

তাদের মধ্যে ৩ জন পুরুষ এবং ১ জন নারী। ভারতের বেঙ্গালুরুর নারায়ণ নেত্রালয়ে গত ২ দিনে তাদের চোখ প্রতিস্থাপনে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২ নভেম্বর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

পুনীত রাজকুমার তার পরিবারের তৃতীয় সদস্য যিনি মরণোত্তর চোখ দান করেছিলেন। এর আগে, ২০০৬ সালে তার বাবা ড. রাজকুমার এবং ২০১৭ সালে তার মা পর্বতম্মা তাদের চোখ দান করেছিলেন।

আকস্মিক হৃদরোগে গত ২৯ অক্টোবর অনেককে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান কন্নড় সুপারস্টার পুনীত রাজকুমার। মাত্র ৪৬ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ বিনোদন অঙ্গন। সমাজসেবার জন্য তিনি লাখো মানুষের মন জয় করেছিলেন। সবাই তাঁকে ভালোবেসে আপ্পু বলে ডাকত।

মৃত্যুর আগে পুনীত তার দুই চোখ দান করে যান। পুনীত রাজকুমারের বাবা কিংবদন্তি অভিনেতা ডা. রাজকুমার ১৯৯৪ সালে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তার পুরো পরিবার মরণোত্তর চক্ষুদান করবে।

২৯ অক্টোবর জিমে শরীরচর্চা করার সময় হৃদরোগে আক্রান্ত হন পুনীত রাজকুমার। এর পর বেঙ্গালুরুর বিক্রম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

৩১ অক্টোবর সকালে বেঙ্গালুরুর শ্রী কান্তিরাভা স্টেডিয়ামে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষকৃত্য হয় দক্ষিণ ভারতীয় এ তারকার। প্রয়াত অভিনেতাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে যান কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী বাসবরাজ বোম্মাইসহ অগণিত মানুষ।

ভারতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ২৬টি এতিমখানা, ১৬টি বৃদ্ধাশ্রম এবং ৪৫টি বিদ্যালয় পরিচালনা করতেন পুনীত। তাতে এক হাজার ৮০০ শিক্ষার্থী বিনাবেতনে অধ্যয়ন করত। পুনীতের মৃত্যুর পর সেই এক হাজার ৮০০ শিক্ষার্থীর দায়িত্ব নিয়েছেন তামিল অভিনেতা বিশাল কৃষ্ণ রেড্ডি।

ম্যাটিনি আইডল ড. রাজকুমারের ছেলে পুনীত রাজকুমার গত শুক্রবার হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ৪৬ বছর বয়সে মারা যান। তাকে মৃত ঘোষণা করার পর ভাই রাঘবেন্দ্র পুনীতের চোখ সংগ্রহের জন্য নারায়ণ নেত্রালয় পরিচালিত ড. রাজকুমার আই ব্যাঙ্ককে ফোন করেন।

হাসপাতালের সূত্র অনুযায়ী, প্রয়াত অভিনেতার প্রতিটি চোখ ২ জন রোগীর চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়েছে। পুনীতের চোখ সংগ্রহের পর কর্নিয়ার উচ্চতর এবং গভীর স্তরগুলো পৃথক করা হয়। উচ্চতর স্তরটি ২ জন রোগীর চোখে প্রতিস্থাপন করা হয়, কারণ তাদের চোখের উপরিভাগ কর্নিয়াল রোগ ছিল। অন্যদিকে গভীর স্তরটি এন্ডোথেলিয়াল বা গভীর কর্নিয়াল রোগে আক্রান্ত রোগীদের প্রতিস্থাপন করা হয়।

নারায়ণ নেত্রালয়ের চেয়ারম্যান ডা. ভুজং শেঠি ইন্ডিয়া টুডেকে বলেন, ৪ জন রোগীর বয়স ২০-৩০ বছরের মধ্যে। ৫ জন চিকিৎসকের একটি দল পুরো প্রতিস্থাপন প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন করেছেন।

তিনি বলেন, সাধারণত একজন মৃত ব্যক্তির ২টি কর্নিয়া দু’জন কর্নিয়াল অন্ধ রোগীর মাঝে প্রতিস্থাপন করা হয়। কিন্তু, আমরা পুনীতের কর্নিয়াল টিস্যু ব্যবহার করেছি ৪ জন ভিন্ন রোগীর দৃষ্টি ফিরিয়ে আনতে। করোনার কারণে চক্ষু দান পুরোপুরি বন্ধ থাকায় ওই ৪ জন ৬ মাসেরও বেশি সময় ধরে অপেক্ষার তালিকায় ছিলেন। হাসপাতালটিতে প্রতি মাসে মাত্র ২০০টি চোখ প্রতিস্থাপনের অস্ত্রোপচার করতে পারে।

উল্লেখ্য, শিশু অভিনেতা হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন পুনীত রাজকুমার। ১২টি সিনেমায় শিশুশিল্পী হিসেবে কাজ করেছেন; পেয়েছেন ভারতের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও। ২০০২ সালে ‘আপ্পু’ সিনেমায় অভিনয় করে কন্নড় সিনেমায় তুমুল জনপ্রিয়তা পান তিনি। প্রায় ২৯টি সিনেমায় অভিনয় করেছেন পুনীত রাজকুমার। ছিলেন কন্নড় চলচ্চিত্র জগতের সবচেয়ে পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত অভিনেতা। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ বিনোদন অঙ্গন।