যৌনশক্তি বাড়াতে শরীরচর্চা ছাড়াও প্রতিদিন খাদ্যতালিকায় রাখুন এসব – News Portal 24
ঢাকাSaturday , ৩০ অক্টোবর ২০২১

যৌনশক্তি বাড়াতে শরীরচর্চা ছাড়াও প্রতিদিন খাদ্যতালিকায় রাখুন এসব

নিউজ পোর্টাল ২৪
অক্টোবর ৩০, ২০২১ ১:১৫ পূর্বাহ্ন
Link Copied!

বর্তমানে যৌনশক্তি বাড়াতে প্রাকৃতিক বা যৌনশক্তি বাড়ায় এমন খাদ্য গ্রহণই অনেক বেশি কার্যকরী হিসেবে বিবেচিত। হয়। তাই দাম্পত্য জীবনে যৌনতায় ফিট থাকতে হলে আপনাকে দৈনন্দিন খাবারের মনোযোগী হতে হবে। প্রায়ই দেখা যায় যৌন সমস্যার কারনে সংসারে অশান্তি হয়, এমনকি বিচ্ছেদ পর্যন্ত হয়।

তাই আগে থেকে সতর্ক থাকলেও এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন হওয়ার আশঙ্কা কম থাকবে। বিশেষজ্ঞরা মতে, যৌন শক্তি বৃদ্ধির জন্য কোন প্রকার ঔষধের চেয়ে দৈনন্দিন পুষ্টিকর খাবারই যথেষ্ট। সাথে সুস্থ থাকতে শরীরচর্চা তো করতেই হবে। তাই নিয়মিত শরীরচর্চার পাশাপাশি আপনার খাবার মেনুতে যোগ করুন এই খারারগুলো।

দুধ

যৌন ক্ষমতাকে ধরে রাখতে দুধের গুরুত্ব অপরিসীম। এতে থাকা প্রাণিজ-ফ্যাট যৌন ক্ষমতা বৃদ্ধিতে অত্যন্ত সহায়ক। শরীরে সেক্স হরমোনের পরিমাণ বাড়াতে চাইলে বেশি পরিমাণে ফ্যাট জাতীয় খাবার খাওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। যেমন- খাঁটি দুধ, দুধের সর, মাখন ইত্যাদি। তবে এই ফ্যাট জাতীয় খাবারগুলো যেন হয় প্রাকৃতিক ও স্যাচুরেটেড যুক্ত ফ্যাট। বিশেষ করে ছাগলের দুধ পুরুষের যৌন ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।

ডিম

যৌন স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী খাবার হলো ডিম। এতে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন থাকে যা হরমোনের মাত্রাকে ঠিক রাখতে এবং মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। রোজ সকালে একটা করে ডিম খেলে শরীরিক শক্তি ও যৌন ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।

মধু

মধু হলো হাজারো ফুল ও দানার নির্যাস, যা যৌন ইচ্ছাকে বৃদ্ধি করতে এবং যৌবনকে ধরে রাখতে খুবই উপকারী ও শ্রেষ্ঠ উপাদান। তাই সপ্তাহে তিন থেকে চার দিন সকালে ১ চামচ করে মধু খান।

ডার্ক চকোলেট

ডার্ক চকোলেট একটি সুপরিচিত অ্যাফ্রোডিসিয়াক যা যৌন উদ্দীপনাকে বাড়িয়ে তোলে। এতে থাকা ফেনিলেথ্যালামাইন উপাদান এই উদ্দীপনাকে বাড়াতে সাহায্য করে। এতে থাকে প্রচুর পরিমাণে ক্যালরি যা যৌন ক্ষমতাকে বৃদ্ধি করে। তাই রোজ ১ থেকে ২ টুকরো ডার্ক চকোলেট খাওয়া অভ্যাস করুন।

বিট ও গাজর

প্রাকৃতিক উপায়ে জননাঙ্গের স্বাস্থ্যের উন্নতি করতে প্রতিদিন বিট ও গাজর খান। বিটে থাকে প্রচুর পরিমাণে নাইট্রেট যা পুরুষাঙ্গের রক্তনালীগুলো প্রসারিত করে। আর গাজরে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ থাকার ফলে এটি শুক্রাণুর পরিমাণ বৃদ্ধি করে এবং প্রোজেস্টেরন হরমোনের মাত্রাকে বজায় রাখতে সাহায্য করে।

বাদাম ও বীজ জাতীয় খাবার

সেক্স হরমোনগুলো ঠিকমতো কাজ করার জন্য কোলেস্টেরলের মাত্রা ঠিক থাকা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। বাদাম বা বীজ জাতীয় খাবারে প্রচুর পরিমাণে প্রয়োজনীয় মনোস্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকে যা শরীরে কোলেস্টেরল তৈরিতে সাহায্য করে। বীজ জাতীয় খাবার যেমন- কুমড়োর দানায় থাকে প্রচুর পরিমাণে জিঙ্ক যা সেবনে প্রস্টেট গ্ল্যান্ড সুস্থ থাকে। পাশাপাশি শুক্রাণু তৈরি করে এবং টেসটোস্টেরন হরমোন তৈরিতে সাহায্য করে। তাই যৌন জীবন সুস্থ রাখতে রোজ কুমড়োর বীজ, সূর্যমূখীর বীজ, চিনা বাদাম, কাজু বাদাম, পেস্তা বাদাম ইত্যাদি খাওয়ার অভ্যাস করুন।

কফি

কফি আপনার যৌন ইচ্ছা বাড়ানোতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কফিতে যে ক্যাফেইন থাকে তা আপনার যৌনতার মুড কার্যকর রাখে।

জয়ফল

গবেষণায় দেখা গেছে, জয়ফল থেকে এক ধরনের কামোদ্দীপক যৌগ নিঃসৃত হয়। সাধারণভাবে এই যৌগটি স্নায়ুর কোষ উদ্দীপিত করে এবং রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়। ফলে আপনার যৌন ইচ্ছা বৃদ্ধি পায়। আপনি কফির সাথে মিশিয়ে জয়ফল খেতে পারেন, তাহলে দুইটির কাজ একত্রে পাওয়া সম্ভব।

ভিটামিন সি জাতীয় ফল

যৌন স্বাস্থ্য ভালো রাখতে চাইলে প্রতিদিন খাবার তালিকায় রঙিন ফলমূল রাখুন। আঙ্গুর, কমলা লেবু, তরমুজ, পিচ ইত্যাদি ফল যৌন ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত উপকারী। গবেষণা দেখা গেছে, একজন পুরুষের প্রতিদিনের খাবার তালিকায় অন্তত ২০০ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি থাকলে তার স্পার্মের কোয়ালিটি উন্নত হয়। এসব ফলে মধ্যে তরমুজের প্রভাব বেশি। অনেকে যৌন উদ্দীপক ওষুধ ভায়াগ্রার সাথে তরমুজের তুলনা করেছেন।

তরমুজ

ভায়াগ্রার সমান কাজ করে এই ফল। সম্প্রতি নানা গবেষণায় প্রমাণিত, শুধু শরীরে জলের মাত্রা বাড়ানো এবং ওজন কমাতেই সাহায্য করে না তরমুজ, বরং যৌন ইচ্ছা বাড়াতেও একই রকম সাহায্য করে এই ফল। এর সিট্রোলিন অ্যামিনো অ্যাসিড লিবিডোর মাত্রা বাড়ায়। ফলে কামেচ্ছা ও যৌন ক্ষমতা দুই-ই বাড়ে।

আমন্ড এবং পেস্তা

আমন্ডে প্রচুর ভিটামিন ই রয়েছে। ভিটামিন ই সমৃদ্ধ যে সব খাবার ইস্ট্রোজেন ও টেস্টোস্টেরন হরমোন ক্ষরণে বিশেষ ভূমিকা পালন করে, তাদের মধ্যে আমন্ড অন্যতম। তাই নারী-পুরুষ নির্বিশেষ এই খাবার যৌনাকাঙ্ক্ষা বাড়িয়ে তোলে। আবার লিবিডো বাড়াতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে পেস্তা। এটি তামা, জিঙ্ক ও ম্যাঙ্গানিজ একটি বিশাল প্রাকৃতিক উৎস। শুক্রাণুর ঘনত্ব বাড়াতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে পেস্তা।