আপনি কি কোষ্ঠকাঠিন্যে ভুগছেন? জেনে নিন কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণ, লক্ষণ ও কিছু পরামর্শ – News Portal 24
ঢাকাThursday , ২১ অক্টোবর ২০২১

আপনি কি কোষ্ঠকাঠিন্যে ভুগছেন? জেনে নিন কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণ, লক্ষণ ও কিছু পরামর্শ

নিউজ পোর্টাল ২৪
অক্টোবর ২১, ২০২১ ১১:৪৭ অপরাহ্ন
Link Copied!

কোষ্ঠকাঠিন্যের কথা কমবেশি সবারই জানা। এটি এমন একটি গোপন সমস্যা যা কাউকে বলাও যায় না আবার কষ্ট সহ্য করাও যায় না। এটি আসলে কোন রোগ নয়, রোগের উপসর্গমাত্র।

কোষ্ঠকাঠিন্য কি

কোষ্ঠ অর্থ হচ্ছে মলাশয়। কোষ্ঠকাঠিন্য অর্থ হচ্ছে মলাশয়ের মল ঠিকমতো পরিষ্কার না হওয়া বা মলে কাঠিন্যহেতু মলত্যাগে কষ্টবোধ হওয়া। যদি যথেষ্ট পরিমাণ আঁশ জাতীয় খাবার খাওয়ার পরও সপ্তাহে তিন বারের কম স্বাভাবিক ও স্বতঃস্ফূর্ত মলত্যাগ হয়, তবে তাকে কোষ্ঠকাঠিন্য বলে।

কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণ কী

কোষ্ঠকাঠিন্য নানা কারণে হতে পারে। সুষম খাবার, আঁশজাতীয় খাবার কম খাওয়া, পানি কম পান করা, শর্করা বা আমিষ যুক্ত খাবার অতিরিক্ত পরিমাণে খাওয়া, ফাস্টফুড, মশলাযুক্ত খাবার বেশি খাওয়া, সময়মত খাবার না খাওয়া, কায়িক পরিশ্রম কম করা, দুশ্চিন্তা করা, বিভিন্ন রোগ যেমন ডায়াবেটিস, মস্তিষ্ক রক্তক্ষরণ বা টিউমার, থাইরয়েডের সমস্যা, অন্ত্রনালীতে ক্যান্সার, কাঁপুনিজনিত রোগ, স্নায়ু রজ্জুতে আঘাত, দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগ ইত্যাদি হওয়া, দীর্ঘদিন বিছানায় শুয়ে থাকা, বিভিন্ন ধরনের ওষুধ, ডায়রিয়া বন্ধের ওষুধ, পেট ব্যথার ওষুধ, উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ খাওয়া, পেপ্টিক আলসার এর ওষুধ, খিঁচুনির ওষুধ, আয়রন, ক্যালসিয়াম ও অ্যালুমিনিয়াম সমৃদ্ধ ওষুধ সেবন করা  কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণ।

কোষ্ঠকাঠিন্যের লক্ষণ কি

স্বাভাবিকের চেয়ে কম সংখ্যকবার মলত্যাগ করা, ছোট, শুষ্ক, শক্ত পায়খানা হওয়া, মল ত্যাগে অত্যন্ত কষ্ট হওয়া, পায়খানা করতে অধিক সময় লাগা, পায়খানা করতে অধিক চাপের দরকার হওয়া, অধিক সময় ধরে পায়খানা করার পরও পূর্ণতার অনুভূতি না আসা, পেট ফুলে থাকা, আঙুল, সাপোজিটরি কিংবা অন্য কোনো মাধ্যমের সাহায্যে পায়খানা করা, মলদ্বারের আশপাশে ও তলপেটে ব্যথার অনুভব হওয়া, মলদ্বারে চাপের অনুভূতি হওয়া কোষ্ঠকাঠিন্যের লক্ষণ।

কোষ্ঠকাঠিন্য হলে ক্ষতি কী?

কোষ্ঠকাঠিন্য হলে প্রথম ক্ষতি হলো পায়খানা করতে অনেক কষ্ট হয়। কষ্ট হলে কী হয়? পায়খানার রাস্তাটা ছিঁড়ে যায়। ছিঁড়ে গেলে রক্ত বের হয়। রক্ত বের হলে আবার যখন পায়খানা আসে, তার ভেতরে একটি ভয় তৈরি হয়। ভাবে, আবার ব্যথা পাবে। সে জন্য আর পায়খানা করতে চায় না। তখন হয় কী? সে পায়খানায় যায় না। পায়খানা আটকে রাখে। আরো বেশি কোষ্ঠকাঠিন্য হয়।

কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে এনাল ফিসার হতে পারে। এর চিকিৎসা করতে হয়। একবার কোষ্ঠকাঠিন্য হলে একে ঠিক করতে অনেক লম্বা একটি প্রক্রিয়ার মধ্যে যেতে হয়।

যদি দীর্ঘদিন কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা থাকে তাহলে ঘরোয়া উপায়েই তা সারিয়ে তুলতে পারেন। এজন্য অনুসরণ করুন আয়ুর্বেদের কিছু উপায়। জেনে নিন করণীয়-

>> প্রত্যেকরই দিনে অন্তত ২-৩ লিটার পানি খাওয়া উচিত। তবে অনেকেই তা মানেন না। অতিরিক্ত ঘামের পর শরীর থেকে পানি বের হয়ে যায়। তাই বেশি করে পানি খাওয়া জরুরি। শরীরে পানিশূন্যতার সৃষ্টি হলে কোষ্ঠকাঠিন্য হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে।

>> কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে খেতে পারেন ডালিয়া। এতে থাকে উদ্ভিজ্জ প্রোটিন, ফাইবার ও ভিটামিনসমূহ। যা কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কমায়।

>> আয়ুর্বেদের তথ্য মতে, কোষ্ঠাকাঠিন্য কমাতে সবচেয়ে বেশি উপকারী হলো যষ্টিমধু। এটি শরীরের হজমশক্তি বাড়ায়। এক কাপ পানিতে আধা চা চামচ যষ্টিমধু গুঁড়া ও সামান্য গুড় মিশিয়ে খেলে সারবে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা।

>> ডুমুরের স্বাস্থ্য উপকারিতা সম্পর্কে সবারই কমবেশি ধারণা আছে। এই ফল খেলেও কমবে কোষ্ঠকাঠিন্য।

তবে ডুমুর খাওয়ার আগে কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রাখুন গরম পানিতে। ফলে এতে থাকা ফাইবারের পরিমাণ বেড়ে যাবে ও দ্রুত পেট পরিষ্কার হয়।

>> ঘি ও দুধ খেলেও কোষ্ঠকাঠিন্য রোধ করা যায়। এজন্য রাতে ঘুমানোর আগে ১ কাপ গরম দুধের সঙ্গে ২ চা চামচ ঘি মিশিয়ে খান।

>> এসবের পাশাপাশি সকালে বেশি করে পানি খান। যা ওয়াটার থেরাপির কাজ করবে। এর ফলে দ্রুত পেট পরিষ্কার হবে।

> পাশাপাশি ভেষজ চা পান করতে পারেন, যেমন- সবুজ চা, ক্যামোমাইল চা। এগুলো হজমশক্তি বাড়াতে সাহায্য করতে পারে।

>> কমপক্ষে ৩০ মিনিটের জন্য দৈনিক ব্যায়াম করুন। এতে হজমশক্তি উন্নত হবে, শরীরের মেদ-ভুড়িও কমবে।

>> খাদ্যতালিকায় প্রচুর পরিমাণে ফাইবারজাতীয় খাবার, মৌসুমি ফল ও সবজি রাখুন।

কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে যেসব নিয়ম মেনে চলতে হবে

১. বিশেষ করে দিনে কমপক্ষে ৩-৩.৫ লিটার পানি পান জরুরি।

২. প্রতিদিনের খাবারে রাখুন একাধিক শাক-সবজি। মৌসুমি সব ধরনের শাক-সবজি খাবেন। ঢেঁড়স রাখুন খাবারের তালিকায়। কারণ এটি কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা সারিয়ে তোলে।

৩. দুপুরের খাবারে সব রকম শাক রাখার চেষ্টা করুন। অনেক বেশি নয়, পরিমাণমতো খাবেন। এটি মল নরম করতে সাহায্য করবে।

৪. কুমড়া, লাউ, পটলসহ সব রকম সবজি খেতে হবে। যেসব সবজির খোসা খাওয়া যায়, সেগুলো খোসাসহ খাওয়া উচিত।

৫. শসা খান খোসাসহ। কলা, পেয়ারা, লেবু, আম, জামসহ বেশিরভাগ ফলেই ফাইবার আছে। নিয়ম করে দিনে ৩-৪টি ফল খেলে ভালো হয়।

৬. মলত্যাগের জন্য দীর্ঘ সময় বসে চাপ দেবেন না, এতে সমস্যা বাড়ে।

৭. ধূমপানের অভ্যাস ছেড়ে দিতে হবে। মদ্যপানেও সমস্যা বাড়ে। মদ্যপান এড়িয়ে চলুন।

৮. কাবাবের মতো ঝলসানো মাংস খাবেন না।

শিশুর কোষ্ঠকাঠিন্য হলে কী করবেন?

শিশুদের ক্ষেত্রে এক বছরের কম বয়সিদের মধ্যে কোষ্ঠাকাঠিন্যের সমস্যা তৈরি হলে তা বেশ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত। আরও সমস্যার হল, তাদের ব্যাথা-যন্ত্রণার অনুভূতি নিয়ে কোনও মত প্রকাশও করতে পারে না দুধের শিশুরা। প্রথমে শিশুর শারীরিক সমস্যার কথা বুঝতে পারেন না অভিভাবকরা। কিছু লক্ষণ রয়েছে যা দেখে বুঝতে পারবেন শিশুর কোষ্ঠকাঠিন্য হয়েছে। খেয়াল করুন মল ত্যাগের সময় শিশু কষ্ট পাচ্ছে কি-না। কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণে মল অনেকটা শক্ত হয়ে যায়। এর ফলে মল সহজে বের হয় না।

কোষ্ঠকাঠিন্যে ভুগলে শিশুর মল শক্ত, কালো এমনকি রক্তাক্ত হতে পারে। কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণে পেটে ব্যথা হয়ে থাকে। শিশু কান্নাকাটি করে থাকে।

শিশুর পেট ফুলে যায় এবং কিছু খেতে চায় না। পেটে অতিরিক্ত গ্যাস জমার কারণেই এমনটি হয়। এমন সমস্যা তৈরি হলে শিশুরা নিয়মিত মল ত্যাগ করে না। গুরুতর হলে ৫-১০ দিনেও শিশু মল ত্যাগ করে না।

যা করা উচিত

শিশুর এমন সমস্যা দেখা দিলে প্রথমে ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করুন। ভাল করে চেক-আপ করিয়ে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী শিশুর দেখভাল করুন।

প্রতিদিন নিয়ম করে ব্রেস্টফিড করাতেই হবে। যদি কোনও ব্র্যান্ডের ফর্মুলা দুধ খায়, তাহলে তার পরিমাণ নিয়ে ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করে নিন।

শিশুকে প্রতিদিন ব্যায়াম করান। হাত-পা-পেটে ভাল করে তেল মালিশ ও ব্যায়াম করান। তাতে শিশুর শরীরের রক্ত সঞ্চালন ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলি সক্রিয় হয়ে ওঠে। পেট থেকে গ্যাস বের হতে সাহায্য করে এই পদ্ধতি।

ডাক্তারের নির্দেশে, বাচ্চা যদি ৬ মাসের বেশি বয়স হয় তাহলে অল্প অল্প ফলের রস খাওয়াতে পারেন। খোসা ছাড়ানো আপেলের রস দিতে পারেন। দেখবেন ফলের রস কোনওভাবে টক না হয়। ফাইবার সমৃদ্ধ খাবারও খাওয়াতে পারেন।

ছোট শিশুকে সবসময় শুয়ে না রেখে সাবধানে বসিয়ে রাখতে চেষ্টা করুন। স্নানের সময় বাথটাবে বসিয়ে স্নান করান। এই সমস্যার সময় হালকা গরম পানি দিয়ে শিশুকে স্নান করালে ভাল হয়।

গর্ভাবস্থায় কোষ্ঠকাঠিন্য হলে যা করবেন

গর্ভাবস্থায় নারীরা অনেক স্বাস্থ্য সমস্যার মুখোমুখি হন। যারা প্রথমবার সন্তান ধারণ করেন, তাদের সমস্যাটা একটু বেশিই হয়। অন্তঃসত্ত্বা নারীদের অনেকেই কোষ্ঠকাঠিন্যে ভোগেন। সন্তান পেটে আসার পর কোষ্ঠকাঠিন্যের যন্ত্রণা বিষিয়ে দেয় জীবন।

এমতাবস্থায় অনেকে ঝুঁকির মধ্যেও পড়েন। পায়ুপথের পাশাপাশি পেটে প্রচণ্ড ব্যথা হয়। মল ঠিকমতো বের না হওয়ায় সারাক্ষণ অস্বস্তি কাজ করে।

একটু সতর্ক থাকলে গর্ভাবস্থায় কোষ্ঠকাঠিন্যের ঝুঁকি থেকে বাঁচা যায়। ঘরোয়া উপায়েও গর্ভকালীন এ সমস্যা থেকে প্রতিকার পাওয়া যায়। গর্ভাবস্থায় কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে প্রতিকারের কিছু উপায় জানিয়েছে স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট টপ টেন হোম রেমেডি। আসুন জেনে নিই-

দুধ ও দুগ্ধজাতীয় খাবার

অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় নারীদের দুধ খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকরা। অনেকে দুধ খেতে পারেন না। তাদের দুগ্ধজাতীয় খাবার যেমন-পায়েশ, দধি খেতে বলেন ডাক্তাররা। দুধ ও দুগ্ধজাতীয় খাবার কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে থাকে।

আঁশযুক্ত খাবার

শাকসবজি, ফলমূল কোষ্ঠকাঠিন্যের শত্রু। আঁশযুক্ত খাবার খেলে মল বাড়ে। কোষ্ঠকাঠিন্যও দূর হয়। চিকিৎসকরা বলেন, গর্ভাবস্থায় কোষ্ঠকাঠিন্য কমানোর প্রথম ধাপ হল বেশি করে আঁশযুক্ত খাবার খাওয়া।লালশাক-পালংশাক, লাউশাক, গাজর, আলু, আঙুর, আপেল, কমলা, বেদানা, কলা-এসব খাবার খেলে গর্ভাবস্থায় কোষ্ঠকাঠিন্য থাকে না। তবে পেঁপে খাওয়া যাবে না।

হালকা ব্যায়াম

যারা নিয়মিত ব্যায়াম করেন, তাদের কোষ্ঠকাঠিন্য, পাইলস, ফিস্টুলা হয় না। অন্তঃসত্ত্বাদেরও কিছু হালকা ব্যায়াম আছে। এগুলো অনুসরণ করলে এ সমস্যা কেটে যাবে।

দানাদার খাবার

বাদামসহ বিচিজাতীয় খাবারে প্রচুর পরিমাণে আঁশ পাওয়া যায়। কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে খাদ্যতালিকায় এই খাবারগুলো রাখতে পারেন। দানাদার খাবার খাওয়ার পরামর্শ চিকিৎসকরাও দিয়ে থাকেন। এটি সন্তানের পুষ্টি জোগায়।

তরল খাবার

কোষ্ঠকাঠিন্যের সময় প্রচুর পরিমাণে পানি ও শরবত পান করুন। এটি পায়খানা নরম করতে সাহায্য করে। গর্ভাবস্থায় পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করলে কিছু দিনের মধ্যেই আপনি ভালো ফল পাবেন।

ইসবগুল

কোষ্ঠকাঠিন্যের সঙ্গে ইসবগুলোর সম্পর্ক সাপে নেউলে। অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় যারা এ সমস্যায় ভোগেন, তারা কোনো ধরনের ভাবনা-চিন্তা ছাড়াই ইসবগুল খেতে পারেন।

লেবু পানি

লেবু পানি কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে আরেকটি চমৎকার উপায়। তবে কারও কারও ক্ষেত্রে গর্ভাবস্থায় লেবু পানি গ্যাসের সমস্যা সৃষ্টি করে। লেবুর মধ্যে রয়েছে ভিটামিন-সি। এটি শিশুর বৃদ্ধিতেও কাজ করে। এক গ্লাস গরম পানিতে চার চা চামচ লেবুর রস দিন। এর মধ্যে সামান্য মধু যোগ করুন। দিনে দুবার পান করুন।

কোষ্ঠকাঠিন্য নিজে খুব জটিল রোগ না হলেও এর কারণে নানারকম জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। তাই আগে থেকেই সাবধান হতে হবে। গর্ভাবস্থায় এমনটি হলে দেরী না করে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

সিজারের পর কোষ্ঠকাঠিন্য হলে কি করণীয়?

এমনটা হতে পারে যে গর্ভকালীন সময়ে আপনাকে এই ধরনের কোন সমস্যাতেই পড়তে হয়নি, কিন্তু এখন সন্তান জন্ম নেয়ার পরে আপনার কোষ্ঠকাঠিন্য শুরু হয়েছে। এমতাবস্থায় আপনার শরীরের পরিপাকতন্ত্র আবার তার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে যাওয়ার জন্য কিছুটা সময় দিন।

দীর্ঘ সময় খাওয়া দাওয়া ছাড়াই যদি আপনার প্রসবকালীন সময় পার হয় অথবা প্রসবকালীন সময়েই যদি আপনার মলত্যাগ হয় বা আপনি যদি রক্ত শুন্যতায় ভোগেন তাহলে আপনার পরিপাকতন্ত্র স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে যেতে দুই একদিন সময় লেগে যেতে পারে।

এর কারণ সম্পর্কে খুব স্বাভাবিকভাবেই বলা যেতে পারে যে, যেহেতু আপনার অন্ত্রে এখন তেমন কিছুই নেই তাই আপনি আপাতত এই সমস্যায় ভুগছেন।

এছাড়া আপনার যদি সিজার অপারেশনের মাধ্যমে সন্তান জন্ম নেয় তাহলে পরিপাকতন্ত্র তার স্বাভাবিক কার্যক্ষমতায় ফিরে যেতে আরো তিন চারদিনের মত সময় লাগতে পারে।

তবে এই ধরনের সমস্যা যদি আরো দীর্ঘায়ত হয় তাহলে সেটা নিম্নোক্ত কারণে হতে পারে-

যদি প্রসবের সময় অথবা প্রসব পরবর্তী ব্যথা কমানোর জন্য প্রথাগত চেতনা নাশক ওষুধ গ্রহণ করা হয়ে থাকে। যেমন- মরফিন, ভিকোডিন অথবা Percocet তাহলেও এই ওষুধের কারণে আপনার পাকযন্ত্রের স্বাভাবিক ক্রিয়া কিছুদিনের জন্য ব্যহত হতে পারে।

এছাড়া অর্শরোগের কারণে যদি যৌনাঙ্গ এবং মলদ্বারের মাঝখানের অংশটুকুতে ক্ষত হয়ে থাকে অথবা প্রসবের সময় যদি প্রয়োজন অনুসারে এপিসিওটমি করতে হয় অথবা ছিঁড়ে যায় তাহলেও কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যায় ভুগতে হতে পারে।

এমতাবস্থায় আপনি যদি সেলাইয়ে টান লাগার অথবা ব্যথার ভয়ে মল আটকে রাখেন তাহলেও আপনার কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে। মাতৃত্ব কালীন আয়রন সাপলিমেন্টের কারণেও এমন সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে।

সাধারণত আপনি যদি সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেন তাহলে সন্তান প্রসবের কিছুদিনের মধ্যেই এই কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে আপনার মুক্তি মিলবে।

কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে বেঁচে থাকা অথবা কিছুটা ভালো থাকার জন্য নিম্নে কিছু পরামর্শ প্রদান করা হলো- প্রথম দিকে কয়েকদিন যদিও কিছুটা অস্বস্তি হতে পারে তবুও বাথরুমের চাপ আসলে কখনো মল আটকে রাখবেন না। কেননা আপনি যদি অপেক্ষা করেন তাহলে আপনার মল শুকনো এবং শক্ত হয়ে যাবে, যার ফলে মলত্যাগে আপনার অসুবিধা হতে পারে।

প্রচুর পরিমাণ আঁশযুক্ত খাবার খেতে হবে যেমন হোল গ্রেইন সিরিয়াল এবং পাউরুটি, বাদামী চাল এবং সিমের বিচি ও প্রচুর পরিমাণ ফলফলাদির সাথে শাক সবজীও আপনাকে খেতে হবে। সবসময় সাথে একটা পানির বোতল রাখুন এবং পরিমাণ মত পানি পান করুন।

প্রতিদিন এক গ্লাস ফলের জুস, বিশেষ করে আলুবোখারার জুস এক্ষেত্রে আপনার জন্য বেশ উপকারী ভূমিকা পালন করবে। এছাড়া অনেকে ঘুম থেকে উঠে হালকা গরম তরল জাতীয় খাবার খেয়েও বেশ উপকার পেয়েছেন বলে জানা গেছে। নিয়মিত হাঁটুন। প্রথমদিকে হাঁটা আপনার জন্য একটু কষ্টসাধ্য হবে বটে বিশেষ করে আপনার যদি সিজার অপারেশনের মাধ্যমে সন্তান জন্ম গ্রহণ করে অথবা এপিসিওটমি করে সন্তান প্রসব করানো হয়ে থাকে। তবে এরপরেও হালকা একটু হাঁটাচলা আপনার শরীরের পাকযন্ত্রের স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করবে।

মল যাতে করে নরম হয় এজন্য আপনার ডাক্তারের কাছ থেকে মল নরম করার অথবা laxative জাতীয় ওষুধের পরামর্শ নিয়ে নিতে পারেন, এই জাতীয় ওষুধ যে কোন ফার্মেসিতে পাওয়া যায়। এই ধরনের মল নরম করার ওষুধ মলের মধ্যে তরল পানীয় ভালোভাবে মিশতে সাহায্য করে অপরদিকে laxative জাতীয় ওষুধ মলত্যাগ করাটা একটু সহজ করে দেয়।

যদি এপিসিওটমির কাটা বা স্বাভাবিকভাবে ছিঁড়ে যাওয়া খুব বেশি হয় তবে এসব ওষুধ গ্রহন করার প্রয়োজন পড়তে পারে। এছাড়া আপনি যদি অর্শ রোগে ভুগে থাকেন অথবা আপনাকে প্রচুর পরিমাণে আয়রন ট্যাবলেট ও চেতনা-নাশক ওষুধ গ্রহণ করতে হয় তাহলে এই ধরনের মল নরম করার ওষুধ আপনার জন্য বেশ উপকারী ভূমিকা পালন করবে।

যদি কিছুদিনের মধ্যেই আপনার অবস্থার কোন উন্নতি না হয়ে থাকে তাহলে অতি দ্রুত ডাক্তারের সাথে আলাপ করে নিন। আপনার ডাক্তার হয়ত আপনাকে অন্যান্য আরো অনেক পরামর্শ প্রদান করতে পারবেন অথবা অন্য একটি পদ্ধতিতে (Manual disimpaction) আপনার মলত্যাগে সহযোগিতা করবে। এই ধরনের পদ্ধতিতে হাতে গ্লাভস পরে আঙুলে লুব্রিকেন্ট দিয়ে মলদ্বার দিয়ে আঙুল ভিতরে প্রবেশ করিয়ে শক্ত হয়ে থাকা মল ভেঙে নরম করে দেয়া হয়। কোষ্ঠকাঠিন্য সাধারণত কোন বড় ধরনের সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে না তবে এটা অন্যান্য আরো কিছু রোগের লক্ষণ হিসেবেও দেখা যেতে পারে। তাই মলত্যাগের সময় যদি শ্লেষ্মা বা রক্ত দেখে থাকেন অথবা কোষ্ঠকাঠিন্যের সাথে যদি আপনার তলপেটে প্রচুর পরিমাণ ব্যথা করে তাহলে তাহলে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করুন।

এছাড়া কোষ্ঠকাঠিন্যের সাথে সাথে কিছুদিন যদি ডায়রিয়াও হয় তাহলে ডাক্তারের শরণাপন্ন হন। এই ধরনের কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণে অর্শ রোগেও আক্রান্ত হতে পারেন। এই ধরনের অর্শরোগ দ্রুত মিলিয়ে যেতে পারে অথবা প্রসব পরবর্তী দীর্ঘ সময় ধরেও থাকতে পারে। এই ধরনের অর্শ একবার কমে আসতে পারে আবার বেড়ে যেতে পারে এবং এভাবে প্রায় দীর্ঘ সময় অর্থাৎ প্রায় বছর খানেক ধরে আপনাকে ভোগাতে পারে।

এই ধরনের অর্শরোগ যদিও আপনার জন্য বেশ অস্বস্তিকর তবে এর কারণে আরো বড় ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হওয়ার ঘটনা খুব বিরল। তবে একটা ব্যাপার মনে রাখবেন, আপনার কোষ্ঠকাঠিন্য খুব গুরুতর পর্যায়ের মনে না হলেও ডাক্তারের সাথে এই বিষয়ে পরামর্শ করে নিতে কখনো ভুলবেন না। সবার জন্য শুভকামনা।