অস্থির নিত্যপণ্যের বাজার, বিপাকে স্বল্প আয়ের মানুষ – News Portal 24
ঢাকাSunday , ১০ অক্টোবর ২০২১

অস্থির নিত্যপণ্যের বাজার, বিপাকে স্বল্প আয়ের মানুষ

নিউজ পোর্টাল ২৪
অক্টোবর ১০, ২০২১ ১০:৪১ অপরাহ্ন
Link Copied!

ডেস্ক রিপোর্ট:: বাজারে ঊর্ধ্বমুখী বেশিরভাগ নিত্যপণ্যের দাম। আয় না বাড়লেও, প্রতিনিয়ত নিত্যপণ্যের বাড়তি দামে হিসাব মেলানো কঠিন হয়ে পড়েছে ক্রেতাদের। একের পর এক পণ্য যুক্ত হচ্ছে বাড়তি দামের তালিকায়। এমন অবস্থায় বিপাকে স্বল্প আয়ের মানুষ।

বাজারের তালিকা কাটছাঁট করেও, সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা। ঊর্ধ্বমুখী পণ্যের দামে শুধু গরিব নয়, বাজারের থলি ছোট হয়েছে বেশিরভাগ মধ্যবিত্তের। দাম নিয়ন্ত্রণে নেই তদারকি, সুখবর দিতে পারছে না সরকারি কোনো সংস্থাও।

বাজারে এমনিতেই চাল, ডাল, ভোজ্যতেলের দাম চড়া। তালিকায় যুক্ত হয়েছে পেঁয়াজ, সবজি, ডিম, মুরগি, আদা-রসুনের দামও। সরকারি সংস্থা টিসিবির হিসাবে, এক সপ্তাহেই বাজারে দেশি পেঁয়াজের দাম বেড়েছে সাড়ে ৫২ ভাগ। আর আমদানির পেঁয়াজে বেড়েছে ৪২ শতাংশের বেশি। কাঁচামরিচ কিনতে গুণতে হচ্ছে ১৬০ থেকে ২০০ টাকা। দাম বেড়ে সোনালি মুরগির কেজি উঠেছে ৩২০ টাকায়। গত এক মাস ধরে চড়া ব্রয়লার মুরগির দাম।

নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে মাংস বলতে যে ব্রয়লার মুরগি তার দাম গত এক মাস ধরেই চড়া। টিসিবির হিসেবে, গত এক মাসে ব্রয়লার মুরগির দাম বেড়েছে ৩২ শতাংশের বেশি। গতকাল বাজারে ব্রয়লার মুরগির কেজি বিক্রি হয় ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায়। যা গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায়। কক জাতের সোনালি মুরগিরও এক মাসের ব্যবধানে প্রতি কেজিতে ১০০ টাকা বেড়ে বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৩২০ থেকে ৩৩০ টাকায়। মুরগির পাশাপাশি ডিমের দামও বাড়তি। গতকাল বাজারে প্রতি হালি লাল ডিম বিক্রি হয়েছে ৩৫ থেকে ৩৭ টাকায়। যা একমাস আগেও ছিল ৩৩ থেকে ৩৫ টাকা।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় দর বেঁধে দিয়েও নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না ভোজ্য তেলের বাজার। সপ্তাহের ব্যবধানে ৫ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেলে ১০ টাকা বেড়ে ৬৮০ থেকে ৭৩০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। আর সুপার পামঅয়েলে লিটারে ৫ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১২৮ থেকে ১৩৫ টাকায়। তবে এক লিটারের বোতলজাত ও খুচরা সয়াবিনের দাম বাড়েনি। বর্তমানে খুচরা বাজারে এক লিটারের বোতজাত সয়াবিন ১৪৫ থেকে ১৫৫ টাকা ও খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৩৫ টাকা।

বেড়েছে মোটা চালের দাম। কেজিতে ২ টাকা বেড়ে গতকাল বাজারে প্রতি কেজি মোটা চাল ৪৭ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা গত সপ্তাহে ছিল ৪৫ থেকে ৪৮ টাকা। তবে সরু ও মাঝারিমানের চালের দাম বাড়েনি। বর্তমানে বাজারে সরু চাল নাজিরশাইল/মিনিকেট মানভেদে ৫৮ থেকে ৬৬ টাকা ও মাঝারিমানের চাল পাইজাম/লতা ৫০ থেকে ৫৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সবজির দামও এখন বলতে গেলে স্বল্প আয়ের মানুষের নাগালের বাইরে। গতকাল বাজারে বিভিন্ন ধরনের সবজির মধ্যে শিম ৮০ থেকে ১০০ টাকা, ঝিঙে ৪০ থেকে ৫০ টাকা, মুলা ৫০ থেকে ৫৫ টাকা, করলা ৬০ থেকে ৮০ টাকা, চিচিঙ্গা, পটোল ৪০ থেকে ৫০ টাকা, ঢ্যাঁড়শ ৪০ থেকে ৫০ টাকা, বরবটি ৬০ থেকে ৭০ টাকা, টম্যাটো ১০০ থেকে ১২০ টাকা, গাজর ১০০ থেকে ১৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। এছাড়া বাজারে আসা শীতকালীন আগাম সবজি ফুলকপি ও বাঁধাকপি ( আকারে ছোট) ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়। গতকাল বাজারে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ বিক্রি হয় ১৮০ থেকে ২০০ টাকায়।

সবজির দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে কাওরান বাজারের সবজি বিক্রেতা বেলায়ের হোসেন বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে বন্যা ও বৃষ্টির কারণে অনেক সবজিখেত নষ্ট হওয়ায় দাম বেড়েছে। তবে শীতকালীন আগাম সবজি পুরোপুরি ওঠা শুরু করলে দাম কমে আসবে বলে আশা করছি।

সাধারণ মানুষরা বলছেন, এইভাবে সব পণ্যের দাম বাড়লে আমরা কি করে পরিবার নিয়ে খেয়ে পরে বেঁচে থাকবো। আয় তো আর মাসে মাসে বাড়ছে না।

এদিকে সরকারি হিসাব বলছে, পেঁয়াজের ভালো উৎপাদনের পাশাপাশি মজুদও যথেষ্ট। তবুও সিন্ডিকেট পেঁয়াজের দাম বাড়িয়ে যাচ্ছে। ব্যবসায়ীরা বলেছেন, বাজারে এখন দেশি পেঁয়াজের সরবরাহ কম। আর ভারতেও পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। ফলে দেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম বাড়তি।

এছাড়া দেশে চালের মজুদও প্রায় ১৫ লাখ টনের কাছাকাছি। কিন্তু তাও বাজারে বাড়তি দাম। এইসব বন্ধ করতে বাজার নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন উদ্যোগের কথা বলছে, কৃষি পণ্যের বাজার পর্যালোচনার দায়িত্বে থাকা কৃষি বিপণন অধিদপ্তর।