২২ দিনের শিশুর জন্য দুধ কিনতে লকডাউনে কর্মহীন বাবার কান্না! – News Portal 24
ঢাকাWednesday , ৭ জুলাই ২০২১

২২ দিনের শিশুর জন্য দুধ কিনতে লকডাউনে কর্মহীন বাবার কান্না!

নিউজ পোর্টাল ২৪
জুলাই ৭, ২০২১ ৪:৪৭ অপরাহ্ন
Link Copied!

ডেস্ক রিপোর্ট:: দেশে চলমান কঠোর লকডাউনে বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হতে পারছেন না মানুষ। এদিকে সিএনজিচালক শাহ আলম বাইরে বের হয়েছেন, তবে প্রয়োজনের টানে একান্ত বাধ্য হয়ে।

লকডাউনে কর্মহীন এই ব্যক্তি ২২ দিনের শিশুর খাদ্যের জন্য দুধ কেনার টাকা জোগাড় করতে হন্যে হয়ে চারদিকে ঘুরছেন। আদরের ছোট্ট শিশুসন্তানটির মুখে খাবার তুলে দিতে এই বাবার বুকফাঁটা আহাজারি সবাইকে ছুঁয়ে গেছে।

পরিবার নিয়ে সিএনজিচালক শাহ আলম যশোরের শার্শা উপজেলার নিজামপুর বাজারে বসবাস করেন। লকডাউনের আগে তিনি সিএনজি চালাতেন। এতে তার যাই আয় হতো তা দিয়েই তিনি পরিবারের সদস্যদের মুখে দু’বেলা আহার তুলে দিতেন। এদিকে কঠোর লকডাউনের কারণে তার সেই আয়টুকু বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এখন তার আদরের দুধের শিশুর জন্য দুধ কেনার টাকাও হাতে নেই।

বুধবার (০৭ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার নিজামপুর বাজারে শাহ আলম কান্না করতে করতে বলেন, “আমি একজন অসহায় সিএনজিচালক। পরিবারে আমিই আয়ের একমাত্র ব্যক্তি। আমার ৪ সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে ৬ সদস্যের সংসার। দীর্ঘদিন আয়ের পথ বন্ধ থাকলেও থেমে নেই সংসারের খরচাটা। সরকারের ডাকা কঠোর এই লকডাউনে গত ২৩ জুন থেকে সড়কে গাড়ি চালানো নিষেধ করা হয়। এরপর থেকে আর গাড়ি চালাতে পারিনি, আয়ও হয় নি। এতে ২৩ জুন থেকে আমার একমাাত্র আয়ের পথ অচল হয়ে পড়ে। এখন আমি সংসারের ব্যয় চালাতে ব্যর্থ। কয়েক দিন এর ওর কাছ থেকে ধার করে বাজার করলেও এখন আর তাও হয়ে উঠছে না।

সিএনজিচালক শাহ আলম বলেন, “আমার ঘরে ২২ দিন বয়সের একটা শিশু সন্তান রয়েছে, তাকে দুদিন পর পর ২৫০ টাকা দিয়ে দুধ কিনে খাওয়াতে হয়। কিন্তু বর্তমান আমার কর্ম না থাকায় আমি তার দুধের টাকাটাও বের করতে ব্যর্থ। এ নিয়ে পরিবারকে বাঁচাতে অনেকের কাছে টাকা ধার চেয়েছি কিন্তু কেউ আমাকে সহযোগিতা করেনি। কোনো মেম্বার ও চেয়ারম্যানদের পক্ষ থেকে আমাকে আজও কোনো সহযোগিতা করা হয়নি। চাইলে দেবে বলে আশ্বাস দেয়া হয়েছে অনেকবার কিন্তু ফল তার উল্টো। এজন্য বাধ্য হয়ে আপনাদের কাছে আমার সন্তানের জন্য আজ হাত পেতেছি।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য (মেম্বার) নজরুল ইসলাম বলেন, “সকালে ঘটনাটি শোনার পর তাকে ডেকে বাচ্চার দুধ কেনার জন্য কিছু অর্থ দিয়েছি। পরবর্তীতে তাকে আরও সহযোগিতা করা হবে বলে জানান তিনি।”

বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মীর আলিফ রেজাকে জানালে, তিনি ওই ব্যক্তির মোবাইল নম্বর মেসেজ করে দিতে বলেন।

তিনি বলেন, “আমি এ ব্যাপারে তার সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেব।”