যে ৫ নীতিতে চলছে সিলেট নগর পুলিশ! – News Portal 24
ঢাকাMonday , ২১ জুন ২০২১

যে ৫ নীতিতে চলছে সিলেট নগর পুলিশ!

নিউজ পোর্টাল ২৪
জুন ২১, ২০২১ ৯:৩৭ পূর্বাহ্ন
Link Copied!

ডেস্ক রিপোর্ট:: সিলেট নগর পুলিশের কোতোয়ালি মডেল থানার বন্দরবাজার ফাঁড়ির ইনচার্জ ছিলেন, এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়া। পুলিশ ফাঁড়িতে রায়হান নামের যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে বর্তমানে কারাগারে আছেন।

সাসপেন্ড হওয়া এ পুলিশ সদস্যের কারণে ক্ষুন্ন হয়েছিলো মহানগর পুলিশের ভাবমূর্তি। এমন পরিস্থিতিতে কমিশনার হিসেবে গেল বছর ২৭ অক্টোবর যোগদান করেন নিশারুল আরিফ। দায়িত্ব নিয়েই মহানগরের ৬ থানা, ফাঁড়ি ও তদন্তকেন্দ্রগুলোতে নতুন অফিসার দিয়ে নগর পুলিশের ভাবমূর্তি ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ গ্রহণ করেন তিনি।

রায়হান হত্যায় প্রধান অভিযুক্ত এসআই আকবর গ্রেপ্তারের পর নগর পুলিশের খারাপ কোনো সংবাদ দৃশ্যমান হয়নি। রায়হান হত্যামামলা আদালতে বিচারাধীন আছে। এদিকে থানাগুলোতে মামলা কিংবা সাধারণ ডায়রি করতে কোনো আর্থিক লেনদেন করলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, কমিশনারের এমন আল্টিমেটামের পর ৬ থানায়ই এসব বিষয়ে লেনদেন পরিলক্ষিত হয় না।

অবশ্য নগরীতে আইনশৃঙ্খলার উন্নতি ঘটলেও অবকাঠামোর দিক দিয়ে এখনো পিছিয়ে রয়েছে সিলেট নগর পুলিশ। নগর পুলিশ প্রতিষ্ঠার পর থেকে এসএমপির প্রধান কার্যালয় ছিল পানি উন্নয়ন বোর্ডের রেস্ট হাউস। সেই রেস্ট হাউসেই এখন স্থায়ী ঠিকানা পাচ্ছে এসএমপি। এসএমপির হেডকোয়াটারের বহুতল ভবনের কাজ এখন চলমান।

তবে ৩টি থানা এয়ারপোর্ট, জালালাবাদ ও মোগলাবাজার থানার পাশাপাশি, উপপুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক), উপপুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ), উপপুলিশ কমিশনার (উত্তর) ও মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সব কার্যক্রম চলছে ভাড়া বাসায়।

এদিকে নানা কারণেই পূর্বে মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ ছিলো নানা ‘আলোচিত-সমালোচিত’। প্রায়ই এ বিভাগে নিরীহ মানুষকে ফাঁসানোর অভিযোগ উঠত। গত তিন বছর থেকে এমন অভিযোগ না মিললেও এ বিভাগটি ‘নেইচক্রে’ বন্দি আছে। তবুও নিরবচ্ছিন্ন গতিতে চলছে নগর পুলিশের এ বিভাগ। আসামি গ্রেপ্তার, মাদক উদ্ধার, পরোয়ানার আসামি গ্রেপ্তার অব্যাহত থাকলেও লজিস্টিক সাপোর্ট এবং অন্যান্য সুবিধা বৃদ্ধি করা হলে এ শাখার কার্যকর্ম আরও গতিশীল হবে। গোয়েন্দা শাখায় কোনো নিরপরাধ ব্যক্তিকে অন্যায়ভাবে আটকে রাখা বা উৎকোচের বিনিময়ে আসামি ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে উপপুলিশ কমিশনার সঞ্জয় সরকারের কঠোর নজরধারী রয়েছে।

তবে এ বিভাগের নেই নিজস্ব ভবন, রয়েছে জনবল এবং যানবাহন সংকট। নগর পুলিশের কমিশনার এ বিভাগের চৌকস কর্মকর্তাদের নিয়ে প্রায়ই মতবিনিময়, কল্যাণসভাসহ সবসময় দিকনির্দেশনা অব্যাহত রেখেছেন। গোয়েন্দা শাখাও তাদের ডিসির নেতৃত্বে করোনাকালীন সময়ে সচেতনতামূলক প্রচারপত্র বিলি, মাস্ক ও সেনিটাইজার বিতরণসহ বিভিন্ন কার্যক্রম অব্যাহতভাবে চালিয়ে যাচ্ছে।

ডিসি ডিবির গোয়েন্দা পুলিশের ঘুষ, দুর্নীতি থেকে সরিয়ে আনতে কঠোর নির্দেশনার পাশাপাশি নিজস্ব অর্থায়নে এ বিভাগের সব পুলিশ সদস্যদের জন্য বিনামূল্যে চা-পানের জন্য একটি টি-স্টল তার অফিসের সামনে চালু করেছেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ‘বিপুল পরিমাণের মাদক উদ্ধার ও বিভিন্ন মামলার আসামি গ্রেপ্তারের পাশাপাশি এ বিভাগে গত ৬ মাসে প্রায় ১২০টি মামলা হয়েছে।:

এ ব্যাপারে উপপুলিশ কমিশনার সঞ্জয় সরকার জানান, ‘পুলিশ কমিশনারের নির্দেশনা অনুযায়ী গোয়েন্দা শাখার কার্যক্রম স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে পরিচালিত হচ্ছে। এ বিভাগের কার্যক্রম যে কোনো সময়ের চেয়ে অধিক গতিশীল ও জনবান্ধব।’

এ ব্যাপারে সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার নিশারুল আরিফ বলেন, ‘আইজিপি ঘোষিত ৫টি নীতিতে এসএমপির সব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। আমরা প্রথমতো দুর্নীতিমুক্ত পুলিশি সেবা দিচ্ছি, হয়রানি-নির্যাতন নিপীড়ন করা যাবে না, মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স, যদি কোনো পুলিশ সদস্য মাদকের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিট পুলিশিং-এর মাধ্যমে সেবা দিতে জনগণের দরজায় যাওয়া এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।’ সূত্র: আমাদের সময়