ভুল চিকিৎসায় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে, পা কেটে ফেলা হতে পারে রোগীর! – News Portal 24
ঢাকাFriday , ১৮ জুন ২০২১

ভুল চিকিৎসায় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে, পা কেটে ফেলা হতে পারে রোগীর!

নিউজ পোর্টাল ২৪
জুন ১৮, ২০২১ ৬:০০ অপরাহ্ন
Link Copied!

ডেস্ক রিপোর্ট:: ব্রেন অপারেশনের পর শারীরিক অবস্থা পর্যালোচনা করতে সিটি এনজিওগ্রাম করতে বলেন চিকিৎসকরা। কিন্তু এনজিওগ্রাম করার পরই আমার মায়ের পা ফুলে উঠে এবং ব্যথায় অচেতন হওয়ার মতো অবস্থা হয়।

কিন্তু বিষয়টিতে চিকিৎসকরা একবারও নজর দেননি, উল্টো দু’দিন পর যখন আমার মায়ের অবস্থা আরও করুন হয়ে পড়ে তখন চিকিৎসকরা বলেন, মাকে হাসপাতাল থেকে বাড়িতে নিয়ে যেতে। কিন্তু ততক্ষণে মায়ের অবস্থা আরও খারাপ। এর মধ্যেই মাকে হাসপাতাল থেকে বের করে দেওয়া হয়। কথাগুলো বলতে বলতে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠেন পাপ্পু সাহা।

ভুল চিকিৎসায় হাসপাতালের বেডে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকা মায়ের চিকিৎসা নিয়ে শঙ্কিত তিনি। গত ১৩ জুন রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে সিটি এনজিওগ্রাম করার সময় তাঁর মাকে ভুল চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁর।

পেশায় অ্যাডভোকেট পাপ্পু সাহার মা গৌরী রানী গত ৯ মে হঠাৎ ব্রেন স্ট্রোক করেন। এরপর তাৎক্ষণিক তাঁদের গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীতে স্থানী হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। কিন্তু অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় ২১ মে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।

এই হাসপাতালে টানা ১৭ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ৮ জুন গৌরী রানী’র মাথায় অপারেশন করেন চিকিৎসকরা। এর ৫ দিন পর অবস্থা পর্যালোচনার জন্য ১৩ জুন গৌরী রানী’র সিটি এনজিওগ্রাম করতে বলেন চিকিৎসকরা। ওইদিন হাসপাতালের টেকনোলোজিস্ট বিভাগে সিটি এনজিওগ্রাম করা হয় গৌরী রানী’র।

পাপ্পু সাহার অভিযোগ এনজিওগ্রাম করার পর থেকেই তাঁর মায়ের পা ফুলে ওঠে। শুধু তাই নয়, এনজিওগ্রাম করার সময় চিকিৎসকরা সঠিকভাবে তার মায়ের খোঁজও নেননি বলে অভিযোগ তাঁর।

এমনকি, এই ঘটনার দায় এড়াতে গত ১৫ জুন হাসপাতালের চিকিৎসকরা গৌরী রানীকে বাড়িতে নিয়ে যেতে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দিয়ে দেয়। পরে নিরুপায় হয়ে পাপ্পু সাহা তাঁর মাকে রাজধানীর ধানমন্ডির একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেন। কিন্তু সেখানকার চিকিৎসকরা ভুক্তভোগী পরিবারকে জানিয়েছে- তাদের মায়ের পা কেটে ফেলতে হতে পারে।

অ্যাডভোকেট পাপ্পু সাহা বলেন, “নিউরো সায়েন্স হাসপাতালে ভুল চিকিৎসার পর যখন আমার মায়ের অবস্থা খারাপের দিকে যাচ্ছিলো তখন তারা আমার মাকে ছাড়পত্র দিয়ে দেয়। এটাই বেশি কষ্ট দিয়েছে। আমার কথা হলো, ভুল চিকিৎসা দিয়েছে, কিন্তু চিকিৎসকরা তো চেষ্টা করলেও পারতো, কীভাবে ভুলটাকে সংশোধন করা যায়। কিন্তু সেটা তারা না করে উল্টো আমার মাকে বের করে দিয়েছে। ওই হাসপাতালে চিকিৎসক তো দূরের কথা নার্সদের সাংগেও ঠিকমত কথা বলা যায় না। কুকুরের মতো আচরণ করে তারা।”

তিনি বলেন, “ওই হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়ার পর মাকে ধানমন্ডির ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি করেছি। এখানকার চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, মায়ের পা কেটে ফেলতে হতে পারে। তবুও তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছেন পা-টি রক্ষা করার জন্য। কিন্তু আমরা তো শঙ্কিত মা বাঁচবে কি না সেটা নিয়েই।”

পাপ্পু সাহা’র ছোট ভাই জনি সাহা বলেন, “নিউরো সায়েন্স হাসপাতালে আমরা ভালো কোনো চিকিৎসা পাইনি। আমার পুরোপুরি বিশ্বাস চিকিৎসকদের অবহেলার কারণেই আমার মায়ের এমন পরিস্থিতি হয়েছে। আমার প্রশ্ন হল- একজন ওয়ার্ড বয় কী করে রোগীর ক্যানেলা ফিট করে। তার কী যোগ্যতা আছে এই কাজ করার। তারা কী করে সিটিএনজিওগ্রামের মেশিন অপারেটর করে। আমরা এর বিচার চাই।”

এই ঘটনায় তারা মায়ের জীবন নিয়ে শঙ্কায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। তবে এই ধরণের ঘটনার যাতে পুনরাবৃত্তি না ঘটে সেজন্য তারা কঠোর শাস্তিও দাবি করেছেন। এজন্য তিনি হাসপাতালের পরিচালক, সংশ্লিষ্ট থানা এবং প্রধানমন্ত্রীর দফতরে অভিযোগ দায়ের করবেন বলে জানিয়েছেন ।

পাপ্পু সাহা বলেন, আমার মায়ের সংগে যে ঘটনা ঘটেছে এমন ঘটনার যাতে পুনরাবৃত্তি না ঘটে সেজন্য আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ দিবো । ইতিমধ্যে শেরেবাংলা থানা পুলিশকে অবগত করেছি এবং কালকে (শনিবার ১৯ জুন) হাসপাতালের পরিচালকের কাছে অভিযোগ দিবো।

তবে এ বিষয়ে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স হাসপাতালের পরিচালক প্রফেসর (ডা.) কাজী দীন মোহাম্মদের সংগে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানিয়েছেন, অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন । এজন্য আগামী শনিবার ভুক্তভোগীদের হাসপাতালে অভিযোগ দায়েরের পরামর্শ দেন তিনি।

তিনি বলেন, এই ধরণের যদি কোনো ঘটনা ঘটে তবে অবশ্যই তার ব্যবস্থা নিবো। দোষীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। সূত্র: বাংলাভিশন নিউজ ২৪