সিলেটের চার জেলার ৫২০ ঈদগাহে হচ্ছে না ঈদের জামাত! – News Portal 24
ঢাকাThursday , ১৩ মে ২০২১

সিলেটের চার জেলার ৫২০ ঈদগাহে হচ্ছে না ঈদের জামাত!

নিউজ পোর্টাল ২৪
মে ১৩, ২০২১ ৫:০৯ পূর্বাহ্ন
Link Copied!

ডেস্ক রিপোর্ট:: করোনা ভাইরাসের ফলে সৃষ্ট বৈশ্বিক মহামারির এ সংকটকালে মাসব্যাপী সিয়ামসাধনার পর বছর ঘুরে আবারও আমাদের মধ্যে ফিরে এলো শান্তি, সাম্য ও সম্প্রীতির সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। পবিত্র ঈদুল ফিতর।

বিশ্বব্যাপী অদৃশ্য এ ভাইরাসের থাবায় মানবজাতি আজ বিপর্যস্ত, গভীর সংকটে নিপতিত। তাই ঈদুল ফিতরের এবারকার আয়োজনে আমাদের করোনা মহামারিজনিত সংকট বিবেচনায় রেখে ঈদের আনন্দ-উৎসবে সকলকে শামিল হতে হবে।

এদিকে আজকের রাত পেরুলেই সারা দেশের সকল মুসলিম উম্মাহ সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব ঈদ-উল-ফিতর একযোগে পালন করবে। ঈদের দিন সকাল সকাল অনুষ্ঠিত হবে ঈদ জামাত। তবে সিলেটবাসী তাদের ঈদের জামাত এবারও ঈদগাহে গিয়ে আদায় করতে পারবেন না।

করোনাপূর্ব সময়ে সিলেটে ঈদের প্রধান জামাত হত শাহী ঈদগাহ ময়দানে। কিন্তু এবার শাহী ঈদগাহমুখী জনস্রোত থাকছে না। এবারো মুসল্লিবিহীন থাকছে সিলেটের ৫ শতাধিক ঈদগাহ।

পুলিশ প্রশাসন থেকে এই নিষেধাজ্ঞা আরোপে সিলেটের কোনো ঈদগাহে বা খোলা জায়গায় ঈদের জামাত হচ্ছে না! আর স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে মেনে মসজিদে নামাজ আদায়ের জন্য নির্দেশনা পুলিশের।

স্বাস্থ্যবিধি মানতে গিয়ে প্রয়োজনে এক মসজিদে একাধিক ঈদ জামাত করা যেতে পারে বলেও জানিয়েছেন সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর ও মিডিয়া) মো. লুৎফর রহমান।

তিনি বলেন, ‘এবার পবিত্র ঈদুল ফিতরে স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে মেনে মসজিদে ঈদ জামাত আদায়ের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন এই বিষয়টি তদারকি করবে।’

সিলেট নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (মিডিয়া) বিএম আশরাফ উল্ল্যাহ তাহের বলেন, ‘পবিত্র ঈদুল ফিতরে কোনো উন্মুক্ত স্থানে জামাত হবে না। সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে মসজিদে ঈদ জামাত আদায় করতে হবে।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ‘করোনাপূর্ব সময়ে সিলেটে ১ হাজার ১৮৭টি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হত। এরমধ্যে জেলা ও মহানগর এলাকায় ৫২০টি ঈদগাহে এবার ঈদ জামাত হচ্ছে না। এরমধ্যে নগর এলাকায় ৮৩টি এবং জেলায় ৪৩৭টি ঈদগাহে এবার ঈদ জামাত হচ্ছে না।’

করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে গতবছরের মত এবারের রোজার ঈদের জামাতও মসজিদের পড়তে হবে। এক্ষেত্রে মানতে হবে স্বাস্থ্যবিধি, করা যাবে না কোলাকুলি।

সবাইকে বাসা থেকে ওজু করে মসজিদে যেতে হবে মাস্ক পরে। কাতারে দাঁড়াতে হবে দূরত্ব রেখে। করোনাভাইরাস অতি সংক্রামক বলে এ ব্যবস্থা।

গত বছরও রোজা ও কোরবানির ঈদে একই নিয়মে মসজিদে মসজিদে ঈদ জামাতের আয়োজন হয়েছিল। ধর্ম মন্ত্রণালয় এবারও একই রকম নির্দেশনা দিয়েছে।

ঈদের জামাতের পূর্বে ও পরে যা যা মানতে হবে-

১. ঈদের জামাতের সময় মসজিদে কার্পেট বিছানো যাবে না।

২. নামাজের আগে সম্পূণ মসজিদ জীবাণুনাশক দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে। সবাই যার যার দায়িত্বে জায়নামাজ নিয়ে আসতে পারবেন।

৩. মসজিদের প্রবেশদ্বারে হ্যান্ড স্যানিটাইজার বা হাত ধোয়ার ব্যবস্থাসহ সাবান-পানি রাখতে হবে।

৪. মসজিদে ওজুর জায়গাতেও সাবান বা হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখতে হবে।

৫. প্রত্যেকে নিজ নিজ বাসা থেকে ওজু করে মসজিদে আসবেন। ওজু করার সময় কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড সময় নিয়ে সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে।

৬. ঈদের নামাজে অংশ নিতে অবশ্যই মাস্ক পরে মসজিদে আসতে হবে।

৭। মসজিদে সংরক্ষিত জায়নামাজ ও টুপি ব্যবহার করা যাবে না।

৮. ঈদের নামাজ কাতারে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে অবশ্যই সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করতে হবে।

৯. শিশু, বয়োবৃদ্ধ, অসুস্থ ব্যক্তি এবং অসুস্থদের সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের ঈদের জামায়াতে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকতে বলা হচ্ছে।

১০. মসজিদে ঈদের জামায়াত শেষে কোলাকুলি বা হাত মেলানো পরিহার করতে অনুরোধ করা হচ্ছে।

সবার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন এবং আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণকারী বাহিনীর নির্দেশনা সবাইকে অনুসরণ করতে বলেছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। এসব নির্দেশনা লঙ্ঘিত হলে স্থানীয় প্রশাসন ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনী আইনগত ব্যবস্থা নেবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।