‘নয়া দামান’ গানটি নিয়ে আমার কিছু কথা : তসিবা বেগম – News Portal 24
ঢাকাFriday , ৭ মে ২০২১

‘নয়া দামান’ গানটি নিয়ে আমার কিছু কথা : তসিবা বেগম

নিউজ পোর্টাল ২৪
মে ৭, ২০২১ ১:০৭ অপরাহ্ন
Link Copied!

অনলাইন ডেস্ক:: অনলাইনে ভাইরাল হওয়া ‘নয়া দামান’ গানের পুনর্জাগরণের নেপথ্যে রয়েছেন সিলেটের এক তরুণী। তার কণ্ঠে ভর করেই সিলেট অঞ্চলের এই বিয়ের গানটি এখন ভাইরাল। গানের সঙ্গে সেই তরুণীও এখন সবার পরিচিত। তার নামও আর কারও অজানা নয়। তিনি তসিবা বেগম। তবে দরদ দিয়ে গাওয়ায় গানগুলো হৃদয় কাড়ছে সবার। তার গায়কীতে মুগ্ধ শ্রোতারা।

‘নয়া দামান’ গানটি নিয়ে তসিবা বেগম তিনি তার ফেসবুক আইডিতে ‘আমার কিছু কথা’ নিয়ে শুক্রবার (০৭ মে) বিকাল ৫টায় একটি স্ট্যাটাস দেন সেখানে তিনি অনেক কিছুই তুলে ধরেছেন। যার হুবহু ‘নিউজ পোর্টাল ২৪’-এর পাঠকদের কাছে তুলে ধরা হলো-

আসসালামু আলাইকুম, আমি তসিবা বেগম আপনাদের সিলেটেরই মেয়ে। আপনারা সবাই অবগত আছেন, কিছুদিন পূর্বে আমি এবং মোজা ভাই “আইলারে নয়া দামান” শিরোনামের সিলেটের একটি পুরনো লোকগান নতুন করে কাভার করি। আপনাদের সবার ভালোবাসায় এবং পুরো সিলেটবাসীর সহযোগীতায় গানটা ব্যাপক ভাবে জনপ্রিয়তা পায় এবং মিডিয়া পাড়ায় আলোড়ন সৃষ্টি করে, পরবর্তীতে গানটি দেশের গন্ডি পেরিয়ে বিদেশেও ব্যাপক সমাদৃত হয়।

এখানে একটি কথা না বললেই নয়, গানটির জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে কিছু সংখ্যক হলুদ মিডিয়া গানটির গুনগত মান বজায় না রেখে শুধুমাত্র নিজেদের অর্থ আয়ের উৎস মনে করে প্রচার ও প্রসার করার ব্যার্থ চেষ্টা করছে যার ফলে গানটার চরম ভাবে সম্মানহানি হচ্ছে বলে আমি মনে করি।

আবার অন্যদিকে কিছু সংখ্যক মিডিয়া প্রচার করতে থাকে গানটা সিলেটের বাইরের কেউ কন্ঠে ধারন করেছে যদিও এখন তারা তাদের ভুল বুঝতে পেরেছে এবং উক্ত গানের শিল্পীর জায়গায় আমার নামটি সংযোজন করে পূনরায় প্রচার করছে।

এখন আসি মূল কথায়, উক্ত গানটি যিনি রচনা করেছেন তিনি হলেন আমাদের সিলেটেরই একুশে পদকপ্রাপ্ত দুইজন কৃতি সন্তান পন্ডিত রাম কানাই দাস এবং সুষমা দাসের রত্নগর্ভা মাতা শ্রীমতি দিব্যময়ী দাস।

এখানে উল্লেখ্য, বর্তমানে শ্রদ্ধেয় পন্ডিত রাম কানাই দাসের কন্ঠে গাওয়া একটি ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখে আমার বোধগম্য হয়েছে গানটার কিছু কথা হয়তো যুগের সাথে তাল মিলাতে গিয়ে একটু পরিবর্তন হয়ে গেছে যদিও অর্থগত দিক দিয়ে তেমন পরিবর্তন হয়নি।

আপনারা সবাই আমার সাথে একমত হবেন,বর্তমান ডিজিটাল যুগে গানের অন্যতম একটি প্লাটফর্ম হিসেবে ইউটিউব কে প্রাধান্য দেওয়া হয় যার ফলশ্রুতিতে আমি নিজেও ইউটিউবে গানটি শুনেছি এবং ওই ভাবেই গানটা গাওয়ার চেষ্টা করেছি। এখানে একটা বিষয় উল্লেখ্য, আমার আগেও অনেক বড় বড় গুনী শিল্পীরা গানটি কাভার করেছেন যেটা ইউটিউবে বিদ্যমান আছে কিন্তু মূল গানের সাথে বর্তমানে প্রচলিত গানটির যে আংশিক পরিবর্তন হয়েছে সেটা আমার জানা ছিলোনা আর সত্য কথা যেটা আমার জন্মের আগের এই গানটার মূল ইতিহাস আমার না জানাটাই স্বাভাবিক।

এখানে অনেকেই বলতে পারেন আমি গানটা করার আগে উক্ত গানের মূল ইতিহাস সম্পর্কে কেনো জেনে নিলাম না অথবা আমার জানাটা উচিত ছিলো, জ্বি এটা সত্য এবং অবশ্যই যুক্তিসঙ্গত তবে আমি মনে করেছিলাম যেহেতু গানটা ইতিমধ্যে অনেকেই গেয়েছেন আর এভাবেই প্রচলিত আছে সেহেতু গানটা সঠিক বলে আমার মনে হওয়াটা স্বাভাবিক নয় কি? কারন আমি গাওয়ার আগে অনেকেই এই গানটা গেয়েছেন কিন্তু আমার জানা মতে  তাদের মধ্যে কেউ আদৌ গানটির কারনে বিতর্কিত হয়নি।

পরিশেষে একটাই কথা বলবো, আমি ছোটো মানুষ আর সঙ্গীতের বিশাল সমুদ্রে আমি সামান্য এক জলরাশির সমতুল্য তাই আমার অনিচ্ছাকৃত ভুল ভ্রান্তি গুলো সবাই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখে আমাকে আগামীর পথে হেঁটে যেতে আপনাদের এই সহযোগীতাটা অব্যাহত রাখবেন।

আমার সঙ্গীত জীবনে চলার পথে সবসময় একটাই চেষ্টা থাকবে সিলেটের সকল প্রবীন মহাজনদের বানী এবং পুরনো লোকগান গুলো নির্ভুল ভাবে নতুন করে পুনরায় প্রকাশ করার, এজন্য আমি আশা রাখবো সিলেটের সকল প্রবীন, নবীন গুনিজন সহ সংঙ্গীত সংশ্লিষ্ট সবাই আমাকে সর্বাত্বক সহযোগীতা করার মাধ্যমে আমার পাশে থাকবেন।

দীর্ঘ এই লিখায় যদি আমার কথায় কিংবা ভাষায় কোনো ভুল বেয়াদবি হয়ে থাকে তাহলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ রইলো, সবাই ভালো থাকবেন- আল্লাহ ভরসা।