জান্নাতি পাথর ‘হাজরে আসওয়াদ’-এর সবচেয়ে স্বচ্ছ ছবি প্রকাশ – News Portal 24
ঢাকাTuesday , ৪ মে ২০২১

জান্নাতি পাথর ‘হাজরে আসওয়াদ’-এর সবচেয়ে স্বচ্ছ ছবি প্রকাশ

নিউজ পোর্টাল ২৪
মে ৪, ২০২১ ৪:৪৭ পূর্বাহ্ন
Link Copied!

নিউজ পোর্টাল ২৪ ডেস্ক:: ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কাবা শরিফে অবস্থিত হাজরে ‘হাজরে আসওয়াদ’-(পবিত্র কালো পাথর) এর স্ফটিক স্বচ্ছ ছবি তুলেছেন সৌদি আরবের কর্মকর্তারা।

স্থানীয় সময় সোমবার (০৩ মে) সৌদি তথ্য মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এক বিবৃতিতে বলেন, ‘৪৯ হাজার মেগাপিক্সেলের এই ছবিগুলো তুলতে ৭ ঘণ্টা সময় লেগেছে।’

তিনি বলেন, ‘পবিত্র কালো পাথরটি যেহেতু জান্নাতের পাথর, প্রথমবারের মতো উচ্চ রেজ্যুলেশনের ছবিগুলো এই বার্তা দিচ্ছে যে জান্নাত কত সুন্দর হবে।’

প্রসঙ্গত, ‘হাজরে আসওয়াদ হলো একটি কালো রঙের প্রাচীন পাথর যা কাবা শরিফের দক্ষিণ-পূর্ব কোণে মাতাফ থেকে দেড় মিটার (চার ফুট) উঁচুতে অবস্থিত। ইসলাম ধর্মের বিশ্বাস অনুযায়ী এই পাথর আদম ও হাওয়ার সময় থেকে পৃথিবীতে রয়েছে।’

ইসলাম ধর্মের শেষ নবী মুহাম্মদ (সা.) এর সময়ে পবিত্র কাবাঘর পুনর্নির্মাণের পর হাজরে আসওয়াদকে আগের জায়গায় কে বসাবেন, এ নিয়ে কুরাইশদের মধ্যে দ্বন্দ্ব বেঁধেছিল। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) নিজের গায়ের চাদর খুলে তাতে হাজরে আসওয়াদ রেখে সব গোত্রপ্রধানকে চাদর ধরতে বলেন এবং দ্বন্দ্বের পরিসমাপ্তি ঘটান।

এই পবিত্র পাথরের দৈর্ঘ্য ৮ ইঞ্চি ও প্রস্থ ৭ ইঞ্চি। বর্তমানে এটি আট টুকরো। হজরত আবদুল্লাহ বিন জোবায়েরের শাসনামলে কাবা শরিফে আগুন লাগলে হাজরে আসওয়াদ কয়েক টুকরা হয়ে যায়।

আবদুল্লাহ বিন জোবায়ের পরে ভাঙা টুকরাগুলো রুপার ফ্রেমে বাঁধিয়ে দেন। বর্তমানে হাজরে আসওয়াদের আটটি টুকরা দেখা যায়। বড় টুকরাটি খেজুরের সমান।

জেনে নিন হাজরে আসওয়াদ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:

যদিও এ পাথরকে ‘হাজরে আসওয়াদ’ বা ‘কালো পাথর’ বলা হয়; মূলত এ পাথরের পরিচিতি হলো-

→ এ পাথরটি জান্নাত থেকে বরফ অপেক্ষা সাদা অবস্থায় অবতরণ করেছিল।

→ আদম সন্তানের পাপ গ্রহণ করতে করতেই তা ‘হাজারে আসওয়াদ বা কালো পাথরের’ রূপ ধারণ করেছে।

→ হাজরে আসওয়াদই একমাত্র জান্নাতি পাথর। যা ব্যতীত দুনিয়াতে অন্য কোনো জান্নাতি বস্তু বর্তমান নেই।

→ আল্লাহ তাআলা এ পাথরকে কিয়ামত দিবসে উঠাবেন। তখন এ পাথর ওই ব্যক্তির জন্য সাক্ষ্য প্রদান করবে যে তাকে সততার সঙ্গে স্পর্শ করেছিল।

→ নিঃসন্দেহে হাজরে আসওয়াদ ও রোকনে ইয়ামেনির স্পর্শ দ্বারা আল্লাহ তাআলা বান্দার পাপ মিটিয়ে দেন।

সর্বোপরি কথা হলো-‘হাজরে আসওয়াদ’-কে যদি জাহেলি যুগের অপবিত্রতা স্পর্শ না করতো; তবে তাকে যে কোনো রোগ-ব্যাধি আক্রান্ত লোক স্পর্শ করার সঙ্গে সঙ্গেই আরোগ্য লাভ করতো।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহর সব হজ ওমরা ও জিয়ারতকারীদেরকে দুনিয়ায় অবস্থিত জান্নাতি পাথর ‘হাজরে আসওয়াদ’-কে ‍চুম্বন বা স্পর্শ করার তাওফিক দান করুন।

হাজরে আসওয়াদের চুম্বন ও স্পর্শ করার ফজিলত দান করুন। কিয়ামতের দিন হাসরে আসওয়াদের সাক্ষ্য লাভ করার তাওফিক দান করুন। (আমিন)