দিরাইয়ে ৪৫০ কোটি টাকার ধান ফলনের আশা – News Portal 24
ঢাকাSunday , ১১ এপ্রিল ২০২১

দিরাইয়ে ৪৫০ কোটি টাকার ধান ফলনের আশা

নিউজ পোর্টাল ২৪
এপ্রিল ১১, ২০২১ ১২:০২ অপরাহ্ন
Link Copied!

সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে যথাসময়ে হাওরের ধান কর্তন নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় এ বছর ৪৫০ কোটি টাকার অধিক ফসল উৎপাদন হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।

রোববার (১১ এপ্রিল) উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে বেলা সাড়ে ১১টায় উপজেলা কৃষি পুনর্বাসন ও বাস্তবায়ন কমিটির আয়োজনে উপজেলার ৯টি হাওরে বোরো ধান দ্রুতসময়ে কর্তনে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ ও শ্রমিক সংকট নিরসনে করনীয় বিষয় নিয়ে কৃষি ও কৃষি সংশ্লিষ্টদের অংশগ্রহণে মতবিনিময় সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা কৃষি পুনর্বাসন ও বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুর রহমান মামুনের সভাপতিত্বে এবং উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা শাহিন আলমের সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন উপজেলা কৃষি পুনর্বাসন ও বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য সচিব ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু মো. মনিরুজ্জামান।

অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. স্বাধীন কুমার দাস, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মোহন চৌধুরী, নারী ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট রিপা সিনহা, ইউপি চেয়ারম্যান শিবলী আহমদ বেগ, প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান লিটন, ভাটিবাংলা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সভাপতি প্রশান্ত সাগর দাস, তাজুল ইসলাম, কৃষক প্রতিনিধি শ্রীবাস দেবনাথ, মেটাল এগ্রো লিমিটিডের প্রতিনিধি ফাহিম মুনতাসিম প্রমুখ।

উপজেলা কৃষি পুনর্বাসন ও বাস্তবায়ন কমিটির সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, একফসলী শতকরা ৮৯ ভাগ হাওরবেষ্টিত এই উপজেলায় এ বছর ৩০ হাজার ১১০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ হয়েছে, যা গতবারের তুলনায় ৮ ভাগ বেশি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর ১ লাখ ২৭ হাজার ৬৬৩ মেট্রিক টন চাল (আনুমানিক মূল্য ৪৫০ কোটি টাকার অধিক) উৎপাদন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ধান দ্রুতসময়ে কর্তনের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসক জাহাঙ্গীর হোসেন ৫টি হারভেস্টার মেশিন বিতরণ উদ্বোধনের পর এখন পর্যন্ত ২০টি হারভেস্টার মাঠে রয়েছে। আরও ১০টি হারভেস্টার মাঠে কাজ করবে। এ বছর উপজেলায় ৩০টি হারভেস্টার বরাদ্দের জন্য অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এছাড়া বিগত বছরের ২৫টি ও ভাড়ায় ৫টি যন্ত্র মাঠে রয়েছে। প্রতিদিন ২০০ হেক্টরের বেশি জমি যান্ত্রিক পদ্ধতিতে কর্তন হবে। বৈশাখ মৌসুমে উপজেলায় এ বছর মোট ২২ হাজার ৭০৮ জন কৃষি শ্রমিকের চাহিদা রয়েছে, যার মধ্যে ১২ হাজার ৭০৮ জন স্থানীয় শ্রমিক রয়েছেন। ৭০টি হারভেস্টার মানে ৫ হাজার ৪০ জন যান্ত্রিক শ্রমিক। ৩ হাজার ৬৭৬ জন বহিরাগত শ্রমিক ইতোমধ্যে আসা নিশ্চিত করেছেন। বর্তমানে ৪২৩ জন শ্রমিক ২১টি দলে মাঠে কাজ করছেন। তাদের আসা, থাকা ও স্বাস্থ্যসেবার বিষয়টি কমিটির তত্ত্বাবধানে রয়েছে, যা প্রতিনিয়ত হালনাগাদ হচ্ছে।

এ বছর কোনো শ্রমিক সংকট নেই উল্লেখ করে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু মো. মনিরুজ্জামান বলেন, আপদকালীন প্রস্তুতি হিসেবে ৭ হাজার ৫০০ জন পারিবারিক কৃষি শ্রমিক, আধাসরকারি, স্বেচ্ছাসেবী, কৃষক সংগঠনের ৪ হাজার ৭০০ জনসহ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, কৃষকলীগসহ প্রায় ৩৮ হাজার ৪৬০ জন এ বৈশাখী উৎসব করার জন্য প্রস্তুত।